শেরপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

শেরপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
শেরপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
শেরপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতে তেমন শীত অনুভূত না হলেও গত কয়েকদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত বাড়ছে। দিনের অর্ধেক সময়জুড়ে কোথাও সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ জড়সড় হয়ে পড়েছেন। তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন। সামর্থ্যবানরা ঘরে অবস্থান করতে পারলেও ওইসব গরিব ছিন্নমূল মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। দু’মুঠো অন্নের জন্য তাদের ছুটতে হচ্ছে কাজের সন্ধানে। জীবন ধারণের জন্য প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের।


ক্সশীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ
ক্স ফুটপাথসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক


শীতের কারণে শহরের ফুটপাথ ও হকার্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়েছে। তবে শীতকে পুঁজি করে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা পোশাকের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকগুণ। তাই অনেক শীতার্ত মানুষকে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এছাড়া শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চারদিকে শীতজনিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই শীতজনিত রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদিকে দিন গড়িয়ে রাত পেরোনোর পর ক্রমেই বাড়তে থাকে কুয়াশা। একইসঙ্গে বইতে শুরু করে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার দাপটে সকালে মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ির চালক গতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধীরে ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময়মত নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। আজগর আলী, বাদশা মিয়া, আব্দুস সাকুরসহ একাধিক যানবাহন চালক এমনটাই জানান। তারা জানান, দিন যত যাচ্ছে কুয়াশার দাপট ততই বাড়ছে। সন্ধ্যার পর সড়ক-মহাসড়ক ধরে উত্তরের জেলা শহরগুলোতে যেতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। ফাঁকা স্থানগুলোয় কুয়াশার দাপটে গাড়ি টানাই যায় না।
রিকসা চালক বকুল মিয়া জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার শীত বেশি। তাই এবারের শীতে একেবারেই কাহিল হয়ে পড়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, শীতের কারণে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি, আমাশয় রোগ হচ্ছে। এসব রোগে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : ‘জারে জান শেষ’ শাহজাদপুরে কদিন ধরে টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ শাহজাদপুর মাদলা গ্রামের বক্স, সাজাই, কাকলিয়ামারি গ্রামের জমির, নলুয়া গ্রামের সোরহাব মুন্সী জানান, তাদের একমাত্র উপার্জন হলো খেটে খাওয়া, কিন্তু প্রচন্ড ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে। একদিকে কাজ নেই অন্যদিকে অভাব তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এতো ঠান্ডায় এই খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যে একটি কম্বলও জোটেনি। গ্রামের ভাষা তারা বলে বাবারে ‘জারে (শীত) জান শেষ’ ‘যেন আর বাঁচি না’ এমন কথা অনেক অসহায় পরিবারের মধ্যে শোনা যায়।

ঠান্ডায় সন্ধ্যার পরে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম লক্ষ্য করা গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে শাহজাদপুর। বিশেষ করে এই ঠান্ডায় শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে এবং বয়ঃ-বৃদ্ধ মানুষের অবস্থা আরো করুণ। এদিকে শীতের জামা-কাপড় কিনতে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের প্রধান রাস্তায় ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীত থেকে একটু আরাম-আয়েশের জন্য গরম কাপড়ের জন্য দীর্ঘ লাইন।

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা অবিরাম শৈত্যপ্রবাহ ঘন কুয়াশায় ঢাকা এলাকা গত তিনদিন যাবৎ সূর্যের আলো দেখা যায়নি। কুয়াশায় ঢাকা অন্ধকারাচ্ছন অবস্থায় যানবাহন চলাচলসহ জনজীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বাড়ছে শীতার্তদের আহাজারি। চাহিদার তুলনায় সরকারি শীতবস্ত্র বরাদ্দ অপ্রতুল্য। আগুনেই শীত নিবারণের একমাত্র উপায় বেছে নিয়েছে বস্ত্রহীন শীতার্ত মানুষ।

সোমবার উপজেলার সিংগীমারী, গড্ডিমারী, ধুবনী, বাড়াইপাড়া, সির্ন্দুণাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসহায় হতদরিদ্র, দিনমজুর, বস্ত্রহীন পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো দিয়ে ঘরের ভিতরে আগুনের কুন্ড জালিয়ে শীত নিবারণ করছে।  শ্রম বিক্রি না করলে পেটে ভাত জোটে না এমন পেশাজীবীরা হাড় কাঁপানো ঠান্ডার দাপটে মাঠে কাজে যেতে পারছে না। তাদের ঘরে বৃদ্ধ মা বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, এবারে ৭ হাজার ৩শ পিস সরকারি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল্য।

দিনাজপুর : দুপুরে হঠাৎ করেই রোদ উঠার পরও দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহ ও হাড় কাঁপানো শীত কমেনি। প্রচন্ড শীতে মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। মিষ্টি রোদ আকাশে দেখা দিলেও রোদের তাপমাত্রা ছিল না।  সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত ইনচার্জ গোলাম রব্বানী জানান, আজ মঙ্গলবার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীতের তীব্রতা থাকবে। মধ্য জানুয়ারি ১৪ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হবে। শীতের আক্রমণ হবে ভয়াবহ। হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বলসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ৮০ হাজার কম্বল দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি ব্যাংক)সহ বিভিন্ন সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।