২ জনের যাবজ্জীবন

শেরপুরে রাজ্জাক হত্যায় ১ ছিনতাইকারীর ফাঁসি

শেরপুরে রাজ্জাক হত্যায় ১ ছিনতাইকারীর ফাঁসি

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : শেরপুরে কলেজছাত্র আব্দুর রাজ্জাক (২০) হত্যা মামলায় নাজমুল (২৫) নামে এক ছিনতাইকারীর ফাঁসি এবং সাজু আহমেদ খোকন (২৩) ও মমিন (২১) নামে আরো দুই ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন এ রায় দেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি নাজমুল নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বুরুঙ্গা পোড়াবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। যাবজ্জীবন কারদন্ডপ্রাপ্ত আসামি খোকন স্থানীয় মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও মমিন আসকর আলী ওরফে হানিফ দেওয়ানীর ছেলে।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু জানান, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনীমুড়া নামাপাড়া গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে কলেজছাত্র রাজ্জাক তার তিন বন্ধু একই এলাকার ফারুক, শামীম ও ইমনকে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে বেড়াতে যান। বিকেলে একদল ছিনতাইকারী বন্ধু সেজে তাদের নিয়ে সীমান্তবর্তী বুরুঙ্গা এলাকার ১১০১-১২০০ পিলারের কালাপানি-লালপাহাড় এলাকার একটি টিলাতে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে রাজ্জাকসহ চার বন্ধুর কাছে থাকা চারটি মোবাইল সেট ও নগদ টাকাসহ কিছু মালামাল নিয়ে নেন। ওইসময় বাধার মুখে ছিনতাইকারীরা রাজ্জাকসহ চারজনকেই দা ও চাকু দিয়ে উপুর্যপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যান।

এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজনসহ ইকোপার্কে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ফারুক, শামীম ও ইমনকে উদ্ধার করলেও রাজ্জাককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ওইদিন রাত ৯টার দিকে পাহাড়ের টিলার নিচ থেকে রাজ্জাকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পরদিন রাজ্জাকের বাবা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করলে পুলিশ পর্যায়ক্রমে ছিনতাইকারী নাজমুল, খোকন ও মমিনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত আলামত উদ্ধার করে। ওইসময় তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই বছরের ৩১ আগস্ট নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসাইন ওই তিন ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে গেলেও বিচারিক পর্যায়ে তারা একে একে পলাতক থাকেন।

মামলায় সংবাদদাতা, চিকিৎসক, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দুপুরে আদালতের বিচারক এক আদেশ দেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবুজর গাফফারি।