শেখের বেটি মোক নয়া ঘর দেল বাহে!

শেখের বেটি মোক নয়া ঘর দেল বাহে!

শাহিনুর রহমান শাহিন, (ফুলবাড়ী) কুড়িগ্রাম : শেখের বেটি মোক নয়া ঘর দেল বাহে। মোক দেখার কাইয়ো ছিল না। কেন বা মোর নামটা টিএনও নিয়ে গেউচে। সে জন্য মুই ঘরটা পালুং। আগত ঘরের চাল দিয়ে ঘরের ভিতরত পানি পড়ছে। কি কষ্ঠে দিনকাঠা চোং বাহে। খেতা বালিশ  সগই  ভিজি গেইচে। এ্যালা মুই নতুন ঘরত থাকোং। আল্লা তাকে ভালে আকুক। আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম ধনিরাম গেটের বাজার  গ্রামের  রেজিয়া বেওয়া । শুধু রেজিয়া বেওয়া নয় অনেকেই একইমত প্রকাশ করেছেন  নতুন ঘরে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে। ফুলবাড়ী উপজেলায় ৩৭৬টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের বাড়িতে নতুন ঘরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তার মধ্যে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে তাকে। শেষে বয়সে ঘর পেয়ে খুশি হয়েছেন তিনি।

এ এক সময় ১৫ বিঘা জমির মালিক ছিল তার স্বামী আবু কবিরাজ। তখন দাপটে চলছিল তার সংসার। ধরলার ভাঙনে কালের পরিবর্তনে ভিটা চালার ৫ শতাংশ জমি ছাড়া কিছুই নেই তার। বৃদ্ধা রেজিয়া বেওয়া স্বামী মারা গেছে ১০ বছর আগে। সংসার জীবনে ১ ছেলে দুই মেয়ের জন্ম হয়। অভাবের কারণে ছেলে গেছেন ভারতে কাজের সন্ধানে। বড় মেয়ের বিয়ে হওয়ার পর স্বামীর বাড়ি গেলে ছোট মেয়ে আনজু থাকেন বাড়িতে। তার মাঝে অন্যের বাড়ি কাজ করে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমেই বসবাস করছিল রেজিয়া বেওয়া। বৃষ্টি আসলেই ঘরের ভিতরে ঘুমাতে পারেনি সে। পানি পড়ত তার ঘরে। এ রকম অনেকের বাড়িতে নিজের ঘর ছিল না। তাদের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায়  কেউ থাকতো ভাঙাঘরে, কেউবা পরিজন নিয়ে দিন কাটাতো প্লাস্টিক কাগজে ছাউনির ঘরে। জরাজীর্ণ অসহায় মানুষগুলোকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন ঘরসহ ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দিলেন উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজস্ব জমিতে কংক্রিট সিঁড়ি, ভারী টিনসেড ঘর ও ল্যাট্রিন নির্মাণ করার লক্ষে ফুলবাড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের  ৩৭৬টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। সে অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে বরাদ্দ চেয়ে পাঠিয়ে  দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তার প্রেক্ষিতে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কংক্রিট সিঁড়ি  তৈরির  জন্য মালামাল স্থূল করা হয় উপজেলা চত্বরে। সেখানে  তৈরি করা হয় কংক্রিট সিঁড়ি। বরাদ্দ দেয়া হয় পর্যাক্রমে প্রত্যেকটি পরিবারকে। মেঝে প্লাস্টারসহ দুই ফিট ইটের কাজ করা হয় ঘরে। ল্যাট্রিন, দরজা জানালা নির্মাণ করা হয় তালিকা ভুক্তদের বাড়িতে।নতুন ঘর পেয়ে খুশি হয়েছেন ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মজিবর রহমানও মহিরন বেগম।  তারা বলেন সন্তানদের নিয়ে একটি ভাঙা ঘরে থাকতাম। বৃষ্টি আসলে ঘরে পানি পড়তো। টিনের ঘর ও ল্যাট্রিন পাওয়ায় এই কষ্টের দিন শেষ হয়েছে। বড়ভিটা ইউনিয়নের রহিমা বেগম জানান এখন আর বাঁশের ঝাড়ে পায়খানায় বসতে হয় না। নতুন ঘরের সাথে পায়খানা পেয়েছি। ঘরের কাজও ভাল হয়েছে।  

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান ঘর বরাদ্দের কাজটি হয়েছে সঠিক ভাবে। প্রকৃত ব্যক্তিরাই পেয়েছে নতুন ঘর। চলতি বন্যায় ক্ষতি হয়েছে অনেক পরিবারের। তাদের দ্রুত  বরাদ্দ দেয়া হলে উপকৃত হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, জমি আছে ঘর নাই এ প্রকল্পের অধীনে দ্বিতীয় দফায় ৩৭৬টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার পর দেখে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রত্যোকের বাড়িতে টিনসেড ঘর ও ল্যাট্রিন দেয়া হয়েছে। তারা এখন নতুন ঘরে উঠেছেন।