শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন

শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে বহুল আলোচিত তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো দুই বছর বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এ আদেশ দেন। এ সময় ৫২ জন আসামীর মধ্যে ৩২ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। ৫ জন আসামী মারা গেছেন। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঈশ^রদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোখলেছুর রহমান বাবলু, ঈশ^রদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আখতার, ঈশ^রদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপি নেতা অটল, ঈশ^রদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আজিজুর রহমান শাহিন, পৌর যুবদলের সভাপতি শ্যামল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ^রদী পৌর বিএনপির সাবেক সম্পাদক শামসুল আলম। এদের মধ্যে জাকারিয়া পিন্টু পলাতক রয়েছে।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলো, আমিনুর ইসলাম ওরফে আমিন (পলাতক), আজাদ হোসেন, ইসমাইল হোসেন ওরফে জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সামসুর রহমান ওরফে সিমু, আনিছুর রহমান ওরফে সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, রবি (পালাতক), এনাম, কাশেম ওরফে হালট কাশেম (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন-১ (পলাতক), মামুন-২ (পলাতক), সেলিম আহমেদ, কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লা আল মামুন ওরফে রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন ওরফে টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পালাতক), এ.কে.এম ফিরোজুল ইসলাম।দশ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলো, নেফাউর রহমান ওরফে রাজু, আজমল হোসেন ওরফে ডাব্লু, আনোয়ার হোসেন জনি, রনো (পলাতক), বরকত, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, মোক্তার, হাফিজুর রহমান মুকুল, হুমায়ন কবির দুলাল (পলাতক), জামরুল (পলাতক) তুিহন বিন সিদ্দিক, ফজলুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাড. আক্তারুজ্জামান মুক্তা, এপিপি অ্যাড. সাজ্জাদ হোসেন লিটন, অ্যাড. গোলাম হাসনায়েন, অ্যাড. আব্দুল আহাদ বাবু। আর আসামী পক্ষে ছিলেন, অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম গ্যাদা।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাড. এপিপি সাজ্জাদ হোসেন লিটন জানান, ২৫ বছর পর দেয়া মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর আসামীপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, এ রায়ে সন্তুষ্ট নন তারা। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত রায় দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, রায় নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কোনো কর্মসূচিও নেই। তবে আইনী প্রক্রিয়ায় মামলার মোকাবেলা করা হবে।

এদিকে মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল।১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। তৎকালিন ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলাটি পুণঃতদন্ত করে পুলিশ। পরে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।