শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

বুদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের বোর্বি (জ্ঞান) লাভ এবং মহাপরিনির্বাণের (জীবনাবসান) দিন আজ। বিশ্বে বসবাসরত গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা এ দিনটিকে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ হিসেবে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর মর্যাদায় পালন করেন। খ্রিষ্টের জন্মের ৬২৩ বছর আগে সিদ্ধার্তের (পরবর্তী সময়ে গৌতম বুদ্ধ) জন্ম হয়। রাজপুত্র হলেও ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন ব্যতিক্রর্মী চিন্তা চেতনার অধিকারী। মানুষের দুঃখ-বেদনায় কাতর এই মহামানব মানব মুক্তির উপায় অন্বেষণে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেছিলেন। বেরিয়ে পড়েছিলেন সত্যের সন্ধানে। জানা-অজানা নানা স্থান পরিভ্রমণ ও অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত হন ভারতের বিহার রাজ্যে। সেখানে গয়া ফল্গু নদীর তীরে। বিশালকায় অশ্বত্থ গাছের নিচে বজ্রাসনে ধ্যানমগ্ন হন। ধ্যানস্থ অবস্থায়ই তিনি সিদ্ধি লাভ করেন, যা পরে চার আর্যসত্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে পরম জ্ঞান তথা বোধী লাভ করেছিলেন বলে তার নাম হয় বুদ্ধ। সেই থেকেই বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষা স্বর্গের আকর্ষণ ও নরকের ভীতি ছাড়াই মানবজাতির মৈত্রী-কল্যাণ ও মুক্তির দিশা দেখিয়ে আসছে। মানবতা এবং মানবিক গুণাবলীর বহিঃপ্রকাশই বুদ্ধবাণীর বিশেষত্ব। ভারতবর্ষে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ জাত-পাতের চরম বৈষম্য, ধর্মের নামে প্রাণযজ্ঞ আর হিংসায় মানুষ যখন মেতে উঠল-মানুষকে আলোর পথ দেখাতে বুদ্ধ ধরায় এসেছিলেন। তিনি মানুষকে কেবল মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন। তার সাধনা ও সুখ কামনা ছিল সব প্রাণীর জন্য। আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার এই শুভ দিনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়সহ বিশ্বের সব মানবগোষ্ঠী সাম্য ও অহিংস আদর্শে উজ্জীবিত হবে। আমরা আজকের এ শুভ দিনে বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাই পাশাপাশি বিশ্বাসীর অন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক- এ প্রত্যাশা করি।