শুভ বিজয়া

শুভ বিজয়া

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে আমরা সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই। বিশেষত বাংলাদেশ ও বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি দৈনিক করতোয়ার পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি এ উপলক্ষে আমাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভ কামনা থাকবে। আমরা প্রত্যাশা করি, আজ দেবী দুর্গা ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি অর্ঘ্যে সিক্ত হয়ে কৈলাসে ফিরে যেতে যেতে যে মঙ্গলালোক ছড়িয়ে দেবেন, তা সবার জীবনকে আলোকিত করবে। বাঙালি হিন্দুদের কাছে দুর্গাপূজা বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। দুর্গতিনাশিনী হিসেবে সম্মানীয়া এই দেবী বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে দুর্গাদেবী। পরম পূজনীয় তিনি। তিনিই আদ্যাশক্তি,  মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভুজা ও সিংহবাহনা। মানবের কল্যাণে এবং অশুভর ওপর শুভর বিজয়কে তিনি নিশ্চিত করেন। অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দেবী দুর্গা দেবকূলকে রক্ষা করেছিলেন।

এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়েছিল অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয়, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয়। তিনি মানুষকে মহৎ হতে প্রাণিত করেন। মানুষের মনের দৈর্ন্য ও কলুষ দূর করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। সরকার মন্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশেই দুর্যোগৎসব উদযাপিত হয়েছে। আমরা চাই সমাজ সংসার রাষ্ট্র থেকে সব অশুভ, অপশক্তির বিনাশ হোক। মর্ত্যলোক থেকে দেবীদুর্গার বিসর্জনের সঙ্গে বিসর্জিত হোক সব অপশক্তির। পাশাপাশি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট হোক, দূর হোক জাতি-বর্ণপ্রথাসহ সব বিভেদ নীতি। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে-মানুষে সব ভেদাভেদ ও সংকীর্ণতা চিরতরে দূর হয়ে যাক। শক্তিশালী হোক মিলন ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ধারা। বিজয়া দশমীতে সত্য, ন্যায় ও শুভশক্তির জয় হোক - এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। উৎসবের মঙ্গলালোক ছড়িয়ে পড়–ক বাংলাদেশের ঘরে ও বাইরে।