শুধু হেসনই নন, ঈদের আগে ইন্টারভিউ দিতে আর কেউ আসছেন না’

শুধু হেসনই নন, ঈদের আগে ইন্টারভিউ দিতে আর কেউ আসছেন না’

গতকাল বুধবারের মত আজও ধানমন্ডিস্থ বেক্সিমকো তথা বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের অফিসে বসেছিলেন বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের মিনিট ১৫ পর মুঠোফোনে কল দিতেই এক সঙ্গে মিললো দুটি কন্ঠ; মাহবুবুল আনাম এবং জালাল ইউনুস।

তারা তখন বেক্সিমকোয় নাজমুল হাসান পাপনের অফিসে বসে মিটিং সেরে নিজ নিজ গন্তব্যের পথে। গাড়ীতে বসেই কথা বললেন । ‘তবে কি আজও চুপিচুপি কারো ইন্টারভিউ সেরে ফেললেন?’


প্রশ্ন পেয়েই জালাল ইউনুস বলে উঠলেন, ‘না না। ইন্টারভিউয়ের জন্য নয়। আমরা নিজেরা বসেছিলাম। কথা বার্তা হলো এই আর কি!’

তাহলে কি আগামীকাল আর কোন বিদেশি কোচ ইন্টারভিউ এবং প্রেজেন্টেশন দিতে আসছেন? জালাল জানালেন, ‘না তো।’ ‘না শোনা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন নাকি কাল শুক্রবার আসছেন ইন্টারভিউ দিতে?’

এবার জালাল ইউনুস আর মাহবুব আনাম এক সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘না না, মাইক হেসনই নন। কাল কেউই আসছে না সাক্ষাৎকার দিতে।’

তবে কি পরশু বা ১০-১১ তারিখ? এ প্রশ্নের জবাবে বিসিবির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা যোগ করলেন, ‘কাল পরশু বলে কিছু নেই। ঈদের আগে আর কেউ আসবেন না ইন্টারভিউ দিতে।’

কাল জানানো হয়েছিল ঈদের আগেই শর্ট লিস্টে থাকা বাকি দু’জন কোচের ইন্টারভিউ হবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে শোনা গেল অন্য খবর। ঈদের আগে আর কেউ আসছেন না।

এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের দুই বিদেশি কোচের ঈদের আগে বাংলাদেশে না আসা আর ইন্টারভিউ না দেয়ার পেছনে এমন কোন বড় কারণ নেই।

ভাবার কোনই কারণ নেই যে, কোচ নিয়ে বুঝি বিসিবির ভেতরে অনেক কিছু হচ্ছে, তাই বিদেশি কোচের ইন্টারভিউ ঈদের আগে বাতিল করা হয়েছে। আসলে কাল থেকে ঈদের ছুটি। আগামীকাল শুক্রবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি। শনিবারও সরকারি অফিস বন্ধ। রোববার থেকে ঈদ উল আজহার ছুটি শুরু।

কম-বেশি সবাই থাকবেন ছুটির আমেজে, না হয় গরু কেনার কাজে। তাই এ সময় একজন বিদেশি কোচ আসলে তার দেখভাল করা, তার সাথে কথা বলা আর সাক্ষাৎকার নেয়ার ফুরসত পাওয়াও কঠিন। তাই ঈদের আগে আর কোন বিদেশি কোচের ইন্টারভিউ হচ্ছে না।

এদিকে জাতীয় দলের হেড কোচ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার ফানুস উড়ছেই। যদিও বিসিবি কর্তারা মুখে তালা দিয়ে আছেন। এখন পর্যন্ত কারো মুখে একটি নামও উচ্চারিত হয়নি। তারপরও বাইরে গুঞ্জন, একপক্ষ রাসেল ডোমিঙ্গোর কথা বলছেন জোরে সোরে।

ডোমিঙ্গোর কথা-বার্তা, লক্ষ্য পরিকল্পনা ও প্রেজেন্টেশনে বিসিবি সন্তুষ্ট। জানা গেছে দেশে ও বিদেশ মিলে রাসেল ডোমিঙ্গো বছরে প্রায় আড়াইশো দিনের বেশী সময় বাংলাদেশ দলের সাথে কাজ করার কথা বলায় বোর্ড কর্তারা বেশ খুশি।

তারা আসলে এমন কাউকেই খুঁজছিলেন, যিনি বছরে তিন চারবার ছুটি না নিয়ে জাতীয় দলের কার্যক্রম না থাকার সময়েও এসে ক্রিকেটারদের কোচিং করাবেন। কারো সমস্যা থাকলে তা নিয়ে কাজ করবেন। যে কাজগুলো কোন সিরিজ, টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে করা সম্ভব নয়।

একটি সূত্র এমনও জানিয়েছে যে, ডোমিঙ্গোকে বোর্ড কর্তাদের মনে ধরেছে এবং তারই কোচ হবার সম্ভাবনা বেশি। আবার উল্টো কথাও আছে। কারো কারো মত নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসনও হতে পারেন বাংলাদেশ পরবর্তী কোচ।

এই সময়ের অন্যতম কুশলী ও সফল কোচ হেসন অবশ্য আজই আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। কাজেই তার হাতেও অফুরান সময়। তাকে কোচ হিসেবে বিসিবিও পেতে চাইতেই পারে। তিনিও হয়ত বিবেচনায় আছেন।

ভাবার কোনই কারণ নেই বাংলাদেশের হেড কোচ হতে তিনি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দু’বছরের চুক্তিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ হিসেবে যা পেতেন, তা বাংলাদেশের তিন বছরের বেশি সময়ের পারিশ্রমিক। এত বেশি পারিশ্রমিক বহন করা হয়তো বাংলাদেশের পক্ষে কঠিনই হবে।