শুদ্ধি অভিযানে শুদ্ধ হোক বাংলাদেশ

শুদ্ধি অভিযানে শুদ্ধ হোক বাংলাদেশ

রবিউল ইসলাম রবীন : খবরের পাতায় এখন নানা রোমাঞ্চকর খবর। টিভি চ্যানেলগুলি অনেক ঘটনার, র‌্যাবের ক্যাসিনো  অভিযানের লাইভ দেখাচ্ছে। সংবাদকর্মিরা ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছে। মানুষের মধ্যে আলাপের একটা বিষয় নতুন করে এসে  গেছে। প্রায় এভাবে আসে নানা বিষয়, যা মানুষকে নাড়া দেয়। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে নানা স্থানে সেই বিষয় কিছুদিন চলে। একটা সময় সেটি হারিয়ে যায়, নতুন অন্য কোন ঘটনার জন্ম হলে। গোয়েন্দা সংস্থার বরাদ দিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যে,ঢাকা শহরে ৬০টির মতো ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর আছে। সেসব ক্যাসিনো চালানো মালিকদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। সেটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল সহ সারা দেশে।
র‌্যাব- পুলিশ ভয়ঙ্কর সব মানুষকে বিভিন্ন ক্লাব, অফিস থেকে গ্রেফতার করছে। যা কোনদিনই মানুষ ভাবতে পারেনি, সেসব স্থানে প্রভাবশালীরা জুয়া, মদ, প্রচুর অবৈধ টাকার পাহাড় বানিয়েছে। যে স্থানে ক্রীড়া চর্চা হবে, আমাদের সন্তানরা সেই সকল স্থান থেকে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। কিন্তু গত কয়েকদিনে কি দেখলাম আমরা। অনেকটা সিনেমার মতো। কিন্তু বাস্তব। একটা সময় আবাহনী-মোহামেডান ক্লাবের খেলা থাকলে উন্মাদনা শুরু হয়ে যেত। বিস্ময়ের বিষয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া ক্লাব সহ অন্যান্য স্থান থেকে পুলিশ উদ্ধার করলো জুয়া বা ক্যাসিনো সামগ্রী, ইয়াবা, পিস্তল, কোটি কোটি টাকা, টর্চার সেল। এখন ফুটবল সহ অন্যান্য খেলায় অনেকে উৎসাহ হারাবে মনে হয়।
বেশিরভাগ ক্লাবে এখন শুনেছি সারারাত জুয়া খেলা হয়। বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেসব জুয়া খেলতে আসে। অবশ্য মফস্বলের বেশিরভাগ ক্লাব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গ্রামে কোন পাঠাগার নেই। মানুষের মিলিত হওয়ার কোন মাধ্যমই নেই।
কিন্তুু রাজধানীর এই ক্লাবগুলির এই দশা হলো কেন। যে ক্লাবগুলি থেকে আমাদের দেশের সেরা খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে, সেই ক্লাবগুলিতে অবৈধ ক্যাসিনো আরো সব কত কি পাওয়া গেল। হিসেব মেলানো যায়না। কি হচ্ছে সমাজে ? আমাদের বর্তমান শিক্ষার্থীরা এসব থেকে কি শিক্ষা নেবে ? এমনিতেই ধর্ষণ, দুর্নীতি, ঘুষ সহ নানা কর্মকান্ডে বাংলাদেশ ছেয়ে গেছে।  ক্লাশ টু তে পড়া  একজন ছাত্রী আর নিরাপদ নয়। এই অবস্থায় সমাজ এগুবে কীভাবে? রাষ্ট্রের উন্নতি হবে কেমন করে ?
একটা সময় স¤্রাটরা পাশা খেলতো। সেকালের স¤্রাটের যুগ অস্ত গেছে। এখন ’ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান’ সময়। পাবলিকের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা নেতাদের যুগ। তাঁদের  হাতে এখন চরকির মতো একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র, পাশার চাচাত ভাই ক্যাসিনো। ক্লাবের আড়ালে, ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে, ঘন ঘন দল বদলকারী এসব তথাকথিত নেতারা কী পরিমাণ টাকা জমিয়ে ফেলেছেন, তা ক্যাসিনো আবিষ্কারের পর মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে। এসব খয়রাতি নেতারা ভাবছে,দল ক্ষমতায়, তারপরও হাতে হাতকড়া পরছে- দেশে কী শুরু হলো? এর চেয়ে বিস্ময়ের কী থাকতে পারে?
রাজনীতির ঢাল শক্ত বটে, কিন্তু সেটা ১০ মিলিমিটার পুরু কাঁচের মতো। বাইরে থেকে মনে হবে ব্যাপক শক্ত। নরমাল ঝড়ঝাপটা সহজেই আটকায়। কিন্তু বড় ধরনের ঝড় ঝাপটাই সেই ঢাল ঝুরঝুর করে চুরমার হয়ে যায়। সব আবরু খসে পড়ে যায়। তখন জুয়ার বোর্ড, ক্যাশ টাকা, এফডিআরের নথি, লাল পানির বোতল- সব মানুষের নজরে চলে আসে।
একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সমাজে। টাকা চাই মানুষের, সেটি এখন যে পথেই হোক। বৈধ-অবৈধ আর মানুষ দেখছে না। তাইতো একটি ক্লাব যখন অবৈধ টাকা অবৈধ পথে পাচ্ছে, তখন পাশেরটা সেই পথ ধরছে। আর এ ভাবে সমাজের সব স্তরের এই সর্বনাশা প্রবণতা শুরু হয়েছে। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, নীতিমালায় না থাকলেও কিছু কিছু কলেজ প্রধান সরকারিকরণের জন্য শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অবৈধ পথে টাকা নিয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীর ও উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ পদে এখনও লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। সমাজের সেরা সেরা মানুষ এসব স্কুল-কলেজের পরিচালনা পরিষদে আছেন।  দুদকও দেখে না। তাই ক্লাব বলেন, সরকারের বিভিন্ন অফিস বলেন, স্কুল-কলেজ বলেন সর্বত্র অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। তাই শুদ্ধি অভিযান শুধু রাজধানী নয়, মফস্বলেও শুরু করুন।
সহকারী অধ্যাপক-কলামিস্ট
[email protected]   
০১৭২-৫০৪৫১০৫