শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারে তারা বদ্ধপরিকর

শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারে  তারা  বদ্ধপরিকর

অভি মঈনুদ্দীন : এই সময়ে সঙ্গীতাঙ্গনে একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় যে গান না শিখেই সঙ্গীত শিল্পী হতে আসে অনেকে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই যারা গানে নিজেদের পূর্ণাঙ্গরূপে গড়ে তোলে তারপর তারা নিজেদেরকে পেশাগতভাবে সঙ্গীতের সাথে সম্পৃক্ত করেন। ঠিক এমনই তিনজন সঙ্গীতশিল্পী হলেন অপু আমান, ইউসুফ আহমেদ খান ও সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় তারা তিনজন গান নিয়ে নিজেদের সাধনার কথা, সংগ্রামী জীবনের কথা এবং গান নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। অপু, ইউসুফ, নন্দিতা তিনজনই নিজেদেরকে সঠিক পন্থায় গান শিখে, গানে নিয়মিত চর্চায় থেকে তারপর নিজেদেরকে পেশাগতভাবে সঙ্গীতাঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত করে তুলেছেন। অপু তার বাবা বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ অরুণ সরকারের কাছেই গানে শিক্ষা নিয়েছেন। তার মা চন্দনা সরকারও তাকে একজন গায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। যে কারণে একসময় ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’র মধ্যদিয়ে অপু শীর্ষস্থানে আসেন। অন্যদিকে ইউসুফ আহমেদ খান বাবা ওস্তাদ ইয়াকুব আলী খানের কাছেই নিজেকে গানে পরিপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করেন। চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ’ প্রতিযোগিতায় ইউসুফও শীর্ষ স্থানে ছিলেন। এরপর থেকে পেশাগতভাবে তারও যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে নন্দিতা রিয়েলিটি শো বাংলাদেশী আইডল’-এর শীর্ষ স্থানে ছিলেন।

সানজিদা মাহমুদ নন্দিতার মাত্র চার বছর বয়সে ওস্তাদ দীলিপ মজুমদারের কাছে গানে হাতেখড়ি হয়। এরপর ওস্তাদ গৌরাঙ্গ চন্দ্র কর্মকারের কাছে টানা আট বছর তালিম নেন। এরপর ঢাকায় তিনি ওস্তাদ অসিত দেও কাছেও তালিম নেন। মূলকথা অপু, ইউসুফ ও নন্দিতা তারা তিনজনই নিজেদেরকে শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারের ক্ষেত্রে নিবেদিত করেছেন সেই ছোটবেলা থেকেই। যে কারণে তাদের গায়কীতেও তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এই তিনজন কন্ঠশিল্পীর গায়কীতে শ্রোতা দর্শকেরা তাই মুগ্ধ হচ্ছেন বারবার। বছরজুড়ে তাদের হয়তো স্টেজ শো থাকেনা। কিন্তু যারা একবার তাদের গান শুনেন তারা আবারো তাদের গানে মুগ্ধ হতে প্রতীক্ষায় থাকেন। অপু বলেন,‘ বাংলা গান নিয়ে আগামী দিনের সুস্থ ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিতি পেতে চাই। আমি কৃতজ্ঞ শ্রদ্ধেয় সুজেয় শ্যাম, শেখ সাদী খান, আলাউদ্দিন আলী স্যারদের কাছে। কৃতজ্ঞ পার্থ বড়–য়া দাদার কাছে।’  ইউসুফ আহমেদ খান বলেন,‘ আমার গানের চলার পথে আমার বাবা মা খুব প্রেরণা দেন। শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারে নিজেকে সারাটা জীবন নিবেদিত করে কাজ করে যেতে চাই।’ নন্দিতা বলেন, ‘সঙ্গীতাঙ্গনে আমার নিজস্ব একটা ঘরানা তৈরী হয়েছে, এটাই আমার অনেক ভালোলাগার। কিংবদন্তী অনেক শিল্পীরাই আমার গান পছন্দ করছেন, এটাও অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার কন্ঠে ভালো গানের শ্রোতা যদি একজনও হয় তাতেই আমি খুশি।’ ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার।