শুক্রবারের আশায় বুক বাঁধছেন ব্যাপারীরা

শুক্রবারের আশায় বুক বাঁধছেন ব্যাপারীরা

কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র চারদিন। এখনও জমেনি চট্টগ্রামের পশুর হাট। উপজেলা পর্যায়ে কিছু হাটে কেনাবেচা শুরু হলেও নগরের কোনো হাটেই বেচা-বিক্রির দেখা নেই। তবে ব্যাপারী ও হাট ইজারাদাররা বলছেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে জমবে চট্টগ্রামের পশুর হাট। শুক্রবার হবে মূল হাট।

মঙ্গলবার বিকেলে সাগরিকা পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন প্রান্তে বেঁধে রাখা হয়েছে হাজার হাজার গরু। অধিকাংশ গরু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাট পেরিয়ে সাগরিকা বাজারের আশপাশের অর্ধ মাইলজুড়ে সারি সারি গরু তুলেছেন ব্যাপারীরা। কিন্তু বাজারে ক্রেতার দেখা নেই। যে কয়েকজন আসছেন, তারা দাম দেখেই যাচ্ছেন, কিনছেন না। অনেকে হাটে এসেছেন উৎসুক জনতা হয়ে।

সাগরিকা গরুর বাজারে হাসিলকর্মী আনোয়ার  বলেন, এখনও হাটে বেচা-বিক্রি শুরু হয়নি। প্রতিদিন ৫০-৬০টি গরু বিক্রি হচ্ছে।

গরুর ব্যাপারীরা বলছেন, এবার ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানি অনেক কম। দেশীয় গরু এসেছে অনেক। বাজারে প্রচুর গরু-ছাগল উঠলেও ক্রেতার উপস্থিতি অনেক কম। বিক্রিও তেমন জমেনি।

কুমিল্লা থেকে আসা খামারি দুলাল সওদাগর বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এ বাজারে কোরবানির গরু বিক্রি করছি। আগে আমরা বাজার শুরুর এক সপ্তাহ আগে এসেও বাজারে জায়গা পেতাম না। এবার ঈদের বাকি আর চারদিন। এখনও বাজারে বিক্রি শুরুই হয়নি। মূলত গত পাঁচ বছর ধরে এমন হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ এখন আগেভাগে গরু কেনে না।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খামারি সালাহউদ্দিন এবারই প্রথম গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন ১২টি গরু। বাকি আরও ১৫টি গরু খামারে রেখে আসতে হয়েছে। কারণ, বাজারে গরু রাখার মতো জায়গা নেই।

তিনি  বলেন, বাজারে প্রচুর গরু, কিন্তু বিক্রি নেই। নতুন গরু আনার কোনো সুযোগ নেই। শেষ দিকে বিক্রি শুরু হলে নতুন করে ফার্ম থেকে গরু আনা সমস্যা হয়ে যাবে।

সাগরিকা বাজারের সবচেয়ে বড় গরুগুলো আসে কুষ্টিয়া থেকে। তাই বাজরের একটি অংশে গড়ে উঠেছে কুষ্টিয়া মার্কেট।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির সাগরিকা হাটে এসেছেন বাবার সঙ্গে গরু নিয়ে। তিনি জানান, পাঁচটি গরু নিয়ে সোমবার চট্টগ্রামে এসেছেন। একটি গরুও বিক্রি হয়নি। তবে তিনি আশা করছেন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে তিনি তার গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন।

তানভিরের মতোই কুষ্টিয়া মার্কেটের সব ব্যাপারীর আশা আগামী তিনদিন হবে বেচাকেনার সঠিক সময়। এর মধ্যেই তারা যার যার গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন।

সবাই শুধু গরু নিয়ে এসেছেন- তা নয়, যশোর থেকে ১৫০টি ছাগল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছেন তরিকুল। তিনি  বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন সাইজের ছাগল আছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাজার থেকে কিনে ছাগল নিয়ে আমরা ১১ জন চট্টগ্রামে এসেছি। বেশকিছু বিক্রিও হয়েছে।

সাগরিকা গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. অলিউল্লাহ  বলেন, এখন যারা বাজারে এসেছেন, তারা মূলত সবাই ব্যাপারী। চট্টগ্রামের স্থানীয় খামারিরা ঈদের দু-তিনদিন আগে বাজারে আসেন। ক্রেতারাও তাদের অপেক্ষায় আছেন। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে দেশি গরু বাজারে উঠলে, জমবে পশুর হাট। বেচা-বিক্রিও বাড়বে। শুক্র-শনিবার পুরোপুরি বাজারমুখী হবে মানুষ।

নগরের বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, হাটে এখনও ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা নেই। কারণ চট্টগ্রাম শহরে গরু রাখার জায়গা নেই বলে ক্রেতারা ঈদের দু-একদিন আগে গরু কিনে থাকে। তাই হাটে এখনও বেচা-বিক্রি শুরু হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার থেকে বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা করছি। শুক্রবার হবে এবারের মূল হাট।

এবার চট্টগ্রাম নগরীতে তিনটি স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি আরও ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ছয়টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে– স্টিল মিল পশুবাজার, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কমল মহাজন হাট, বাকলিয়ার কর্ণফুলী বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাজার এবং পতেঙ্গার প্রজাপতি পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের মাঠ। স্থায়ী তিন পশুর হাট হলো– সাগরিকা গরু বাজার, বিবিরহাট গরু বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগল বাজার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক  জানান, এবার চট্টগ্রাম জেলায় ৬৩টি স্থায়ী এবং ১৪৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। চট্টগ্রামে সম্ভাব্য কোরবানির পশুর সংখ্যা ৭ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৭ হাজার ৫৭টি খামারে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু রয়েছে। গত ৩১ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৭টি গরু, ৪২ হাজার ২৮৪টি মহিষ, ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৮টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ২ লাখের বেশি পশু চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি নেই।