শীত জেকে বসায় হাসি ফুটেছে শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুখে

শীত জেকে বসায় হাসি ফুটেছে  শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুখে

হাফিজা বিনা : মধ্য পৌষে এসে তাপমাত্রার পারদ ক্রমেই নিচে নামছে। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার পর থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত কুয়াশায় মোড়ানো থাকছে পরিবেশ। বেলা বাড়ার সাথে কুয়াশা সরিয়ে সুর্য্যি মামা উঁকি ঝুঁকি মারলেও সেই তাপ গায়ে লাগছে না। দুপুরের পরেই আবারও বাড়তে থাকছে শীতের তীব্রতা। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা পড়ছেন বিপাকে। সেই সাথে ঘণ কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে শীত বাড়ার ফলে এই মৌসুমে প্রায় হতাশ হয়ে যাওয়া শীতের কাপড় বিক্রেতার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

এবার শীত দেরিতে আসায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলো ভাল ব্যবসা করতে পারেনি। কিন্তু ক’দিন থেকে শীত বাড়ার কারণে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেচা-কেনা জমে উঠেছে। বগুড়ার নিউমার্কেট, কাঁঠালতলা মার্কেট, আলতাফ আলী সুপার মার্কেটে বিত্তশালীরা আর বগুড়ার হকার্স মার্কেট, সাতমাথার ফুটপাথে শীত বস্ত্র কেনার জন্য নিম্ন আয়ের লোকেরা ভীড় করছেন। মার্কেটের চকচকে দোকানগুলোর চেয়ে ফুটপাতের দোকানগুলোতে নি¤œবিত্ত্বদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত্বদের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গতকাল বগুড়ার হকার্স মার্কেটে শীতের কাপড় কিনতে আসা মানুষে মানুষে একাকার হয়ে গিয়েছিল। কোথাও জোড়া ১শ’, কোথাও জোড়া ৪০, কোথাও যা নেবেন তা ৩০, আবার কোথাও দেড়শ’ টাকা করে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। কিনছেনও মানুষ।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা থেকে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ট্রেনে চেপে বগুড়া হকার্স মার্কেটে এসেছেন মছির উদ্দিন। সাথে এনেছেন ৭শ’ টাকা। এই টাকায় পরিবারের সবার জন্যই শীতের কাপড় কিনবেন। বললেন, ‘এই ক’দিন শীত কম আছিল। তবে গত দু’দিন থেকে শীত বাড়িছে। আর কষ্ট করা যাচ্ছে না। তাই পরিবার নিয়ে আসিছি গরম কাপড় কেনার জন্য।’বগুড়া শহরের সাতমাথায় সারাবছর যেসব দোকানি থাকেন তারা ছাড়াও দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকানি ভ্যানে করে এই মৌসুমে ব্যবসা করার জন্য রা¯তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন সকাল বিকেল। লক্ষ্য করা গেছে শীত না থাকলে দোকানি কমে যায়। আবার শীত বাড়ার সাথে সাথে এই ব্যবসায়ীদের দেখা মেলে সাতমাথায়। শীত জেঁকে বসার কারণে শীতের পোশাক বিক্রিও চলছে জমজমাটভাবে।

সাতমাথায় যখন যেখানে জায়গা মেলে তখন সেখানেই পসরা সাজিয়ে শীতবস্ত্র বিক্রি করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ি  হাফিজ। অন্য সময় বগুড়ার গাবতলীর গ্রামে গ্রামে ফেরি করে গজ কাপড় বিক্রি করেন তিনি। গত একমাস হলো তিনি সাতমাথায় শীতের কাপড় নিয়ে বসছেন। শীত কম থাকার কারণে বেচা-কেনা জমেনি। বললেন আশা করছি পৌষের এই কয়দিন এবং পুরো মাঘ মাস ভাল ব্যবসা হবে। তিনি আরও বলেন, তারসহ অনেকের দোকানেই বেশ ভাল কোয়ালিটির কাপড় পাওয়া যায়। আর তাই শুধুমাত্র নি¤œবিত্ত্ব না, বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের ক্রেতা। দাম খুব বেশি না।

 বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার ৮০ টাকা থেকে ৫শ’ টাকায় পছন্দের পোশাকটি মিলবে। আবহাওয়া অফিস জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আস্তে আস্তে দিনের তাপমাত্রাও কমছে। গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতে কুয়াশায় মোড়ানো থাকলেও দুপুরে বেশ আগেই সূর্যের দেখা     )
মিলেছে। এজন্য দিনের তাপমাত্রা ছিল একটু বেশি। বগুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার জেলায় তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ২২দশমিক ৫ ডিগ্রি আর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একদিন আগের চেয়ে বেশি হলেও সর্বনি¤œ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত অনুভুত হচ্ছে বেশি।