শিশু হত্যা-নির্যাতন

শিশু হত্যা-নির্যাতন

বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরুষের পাশাপাশি এগোচ্ছে নারীও। অবদান রাখছে উন্নয়ন অগ্রগতির প্রতিটি ক্ষেত্রে। তবু মিলেনি নারীর মর্যাদা। পুরুষ শাসিত সমাজে কোনো না কোনোভাবে নারী ও শিশু নিগৃহীত হচ্ছেই। এর ছোবল থেকে নারী ও শিশুর যেন মুক্তি নেই। একই ভাবে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে- তা আমাদের জাতীয় গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই পরিষ্কার হয়। নারী সংগঠন বা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও এর সত্যতা মিলে। ২০১৭ সালে ৩৮৪৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭১০ শিশুর অপমৃত্যু ও ৮৯৪ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

গড়ে প্রতি মাসে ২৮ শিশু হত্যা এবং ৪৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম তাদের বার্ষিক শিশু অধিকার পরিস্থিতি ২০১৭ পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ২০১৬ সালের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার বা প্রত্যাশিত ভাবে না কমার কারণ মূলত বিচারহীনতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, অপরাধী অপেক্ষাকৃত প্রভাবশালী এবং স্থানীয় সালিসে এক ধরনের আপস-মিমাংসার প্রবণতা মহিলা পরিষদ নেত্রী আয়শা খানম গণমাধ্যমে যথার্থই বলেছেন, সমাজে সন্ত্রাসের সংস্কৃতিই নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা বাড়ার নেপথ্য কারণ। আমরা মনে করি, শিশুর প্রতি সহিংসতার জবাব একটাই - দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির দুঃসাহস না পায়। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতেই হবে। শিশুর অধিকার রক্ষায় ব্রতী হতে হবে সবাইকে। কারণ এ দায় সবার।