শিল্পী সমিতির নির্বাচন খোশমেজাজে মিশা- মৌসুমী নাখোশ জ্যেষ্ঠরা

শিল্পী সমিতির নির্বাচন খোশমেজাজে মিশা- মৌসুমী নাখোশ জ্যেষ্ঠরা

স্টাফ রিপোর্টার : বৃষ্টি মাথায় নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই উৎসব উৎসব ভাব নিয়ে শেষ হল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) অন্যতম এই সংগঠনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায়। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টায় ভোট নেওয়ার পর্ব শেষ হয়। শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিটি প্রধান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাংবাদিকদের বলেন, ৪৪৯ ভোটের মধ্যে ৩৮৬টি ভোট পড়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। গণনা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

‘গণনার সময় ভেতরে দুই প্যানেলের একজনকে করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট গণনা প্রক্রিয়া বাইরে ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ দেখানো হচ্ছে।’ সকালে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে ভোটারদের ভিড় বিশেষ ছিল না। তবে দুপুরের পর সরগরম হয়ে ওঠে এফডিসি প্রাঙ্গণ। মৌসুমী, মিশা সওদাগর, জায়েদ খান, ইলিয়াস কোবরাসহ প্রার্থীরা সকাল থেকেই শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে হাজির ছিলেন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে দুপুরের আগেই এফডিসিতে আসতে থাকেন ফারুক, সোহেল রানা, কাজী হায়াত, রোজিনা, আলীরাজ, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খান, পপি, অনন্ত জলিল, বর্ষাসহ অন্যান্য শিল্পীরা। পুরানো-নতুন অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর চেনা রূপ ফিরে পায় এফডিসি। এবার নির্বাচনে ২৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৮টি পদের নেতৃত্ব নির্ধারণে ভোটার ছিলেন শিল্পী সমিতির ৪৪৯ জন সদস্য। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই এফডিসির নিরাপত্তায় তিন শতাধিক র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) আবু হাজ্জাজ জানান,  তাদের ২৩০ জন সদস্য এফডিসিতে দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্পী সমিতির ভোট নির্বিঘ্ন করতে।
‘নিরাপত্তার কারণে’ নির্বাচনী পরিবেশ ভালো
নির্বাচনকে ঘিরে নানা বিষয়ে দু’জনের মতপার্থক্য থাকলেও ‘নিরাপত্তার কারণে’ এবারের নির্বাচনের পরিবেশ’ ভালো বলে একবাক্যে স্বীকার করলেন দুই সভাপতি প্রার্থী মৌসুমী ও মিশা। মৌসুমী বললেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো। আশাকরি সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচনটা শেষ হবে। নিরাপত্তার কারণে নির্বাচনের পরিবেশ আরও ভালো হয়েছে। এটা খুব প্রয়োজন ছিল।’ মিশা সওদাগর বলেন ‘সুন্দর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। ক্রাউড আস্তে আস্তে বাড়ছে।ৃমৌসুমী ও আমি দুজনেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। এটিকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ ব্যক্তিগত জীবনে দুই বন্ধু মিশা সওদাগর ও মৌসুমী নির্বাচনকে ঘিরে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বরাবরই আলোচনার খোড়াক জুগিয়েছেন। কখনও কখনও তারা ব্যক্তিগত আক্রমনে সামিল হলেও ভোটের দিনে বেশ খোশ মেজাজেই দেখা গেল তাদের। বেশ কয়েকবার মুখোমুখি সাক্ষাতে  হাসিমুখে কুশল বিনিময়ও করলেন। মৌসুমী ও মিশার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক প্রার্ধী ইলিয়াস কোবরা ও জায়েদ খানও নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের ক্ষোভ
সকালে এফডিসির মূল ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়েছিলেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক সোহেল রানা। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনী পাস ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তার বচসাকে ঘিরে মূল ফটকের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠার পর চলচ্চিত্র শিল্পীরা গিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে আসেন।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এফডিসিতে ঢুকতে আমার মতো সোহেল রানাকেও কয়েক ধাপ বাধা পার করে আসতে হয়েছে। শিল্পীদের নির্বাচনে এতো পুলিশ পাহারা কেন থাকবে? কদিন আগেও এফডিসির সব নির্বাচন হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। কিন্তু এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মনে হচ্ছে পুলিশি ক্যাম্প।

 এটা কেন হলো?’ সোহেল রানার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরেক পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীও কাজী হায়াত। তিনি বলেন, ‘সোহেল রানার চেহারাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাকে আবার আলাদা করে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে কেন? এটা তো অপরাধ। তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তারপর তার আইডেন্টি কার্ড দেখতে চাওয়া হয়েছে। এটি খুব দুঃখজনক।’ এর মাধ্যমে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখছেন এ চিত্রপরিচালক। তিনি ছাড়াও চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজসহ আরও অনেকে এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এফডিসিতে দায়িত্বরত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভ্রাম্যমান পরিদর্শক আবু হাজ্জাজ বলেন, ‘আজকে সবার নির্বাচনী পাস দেখতে চেয়েছি। এতে যদি তিনি মাইন্ড করেন সেটাতে আমাদের করার কিছু নাই। উনাকে সম্মানের সঙ্গে ঢুকতে দিয়েছি।’ বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমিতিন নির্বাচন কমিটির প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চনের কোনো বক্তব্য জানতে পারেনি।

প্রার্থী তালিকা : এবার নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেলে বিপরীতে মৌসুমী-ডি এ তায়েব প্যানেল করার কথা থাকলেও শেষমুহূর্তে নিজের প্যানেল ভেস্তে যাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান মৌসুমী। তিনি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইলিয়াস কোবরাসহ আরও ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য পদের মধ্যে সহসভাপতি পদে ডিপজল, রুবেল ও নানা শাহ। সহসাধারণ সম্পাদক পদে আরমান ও সাংকোপাঞ্জা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও মামুনুন ইমন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাকির হোসেন ও ডন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ১১টি কার্যকরী সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ১৪ জন; অঞ্জনা সুলতানা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, বাপ্পারাজ, মারুফ আকিব, রোজিনা, রোঞ্জিতা ও শামীম খান (চিকন আলী)।