শিবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

শিবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

নরসিংদীর শিবপুরে বাসচাপায় আহত শিক্ষিকা আসমাউল হুসনা রিনা (৪২) মারা গেছেন।শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) তিনি মারা যান।

নিহত আসমাউল হুসনা রিনা মনোহরদী উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের গাজী হারুন অর রশিদের স্ত্রী ও শিবপুরের খালপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।এর আগে একই দুর্ঘটনায় তার মেয়ে লামিয়া আক্তার মারা যান। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর উপজেলার চান্দারটেক (পঁচারবাড়ি) এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে রয়েল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। এতে লামিয়া আক্তার ও রিপন মিয়া নামের দু’জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন অটোরিকশা যাত্রী আসমাউল হুসনা, রহিম মিয়া ও মজিবুর রহমান নামের তিনজন।

নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, শিক্ষক দম্পত্তি গাজী হারুন অর রশীদ ও আসমাউল হুসনা রিনার পারিবারিক জীবনে এক মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। মেয়ে লামিয়া আক্তার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে গাজী লাবিব শিবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার মা আসমাউল হুসনা রিনা ও মেয়ে লামিয়া আক্তার গ্রামের বাড়ি নোয়াদিয়া থেকে অটোরিকশায় করে শিবপুর যাচ্ছিলেন। তাদের বহন করা অটোরিকশাটি চান্দারটেক এলাকায় পৌঁছালে রয়েল পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন মিয়া নামের একজন নিহত হয় আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তারকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত লামিয়ার মা আসমাউল হুসনাকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দশ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৮টায় আসমাউল হুসনা মারা যান।

নিহতের স্বামী শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষক গাজী হারুন অর রশীদ বলেন, আমি শেষ হয়ে গেলাম। মেয়েটাকে (লামিয়া) নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সে মারা যাওয়ার পর রিনা (স্ত্রী) বাঁচবে বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সেও আজ চলে গেল। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব?

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়েছি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষিকা আসমাউল হুসনা মারা গেছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত রিপন মিয়ার ভাই মনির হোসেন ঘটনার দিন রাতেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আমরা ঘাতক বাস চালককে আটকের জন্য অভিযান পরিচালনা করছি।