শিক্ষিত বেকার বাড়ছে

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে

দেশে উচ্চ শিক্ষিতরা বেশি বেকার- এমন তথ্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়। কিন্তু বাস্তবে সেটিই আছে। প্রতি বছর দেশের শ্রমবাজারে যে পরিমাণ শ্রমশক্তি প্রবেশ করছে সে হারে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশে ১৪ লাখ শ্রম শক্তি যুক্ত হয়েছে যাদের বয়স ১৫ বছরের উপরে। কিন্তু এ সময় দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থানও হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। ফলে বেকার বেড়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বেকার রয়েছে ২৬ লাখ ৮০ হাজার। আগের অর্থ বছর এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। বেকারত্বের হার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। দেশে উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তরুণ বেকারদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের হার ছিল ১২ দশমিক ১১ ভাগ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এই হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ভাগে। সংখ্যার হিসাবে ৩ লাখ ৯০ হাজার উচ্চ শিক্ষিত বেকার রয়েছে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে।

এটা ঠিক আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক উচ্চ শিক্ষিত তরুণ তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘোরাঘুরি করছে কিন্তু চাকরি নেই। ফলে বেছে নিতে হয়েছে বেকারত্বের দুঃসহ জীবন। হতাশাগ্রস্ত তরুণরা শ্রম বাজারের অভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ পানে চেয়ে থাকে। আমাদের উচ্চ শিক্ষিতদের নব্বই শতাংশই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাতে শ্রমিক ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবলের দরকার হয় শতাংশ। যার সঙ্গে শিল্প-কারখানাও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার সম্পর্ক থাকে না। এ কারণেও বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য আমাদের কাজের চাহিদা বিবেচনায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি মনে করি।