শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া

সরকারি পর্যায় থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছর যাবত বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌছে দেয়ার যে রেওয়াজ শুরু করে তা সর্বস্তরে প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু এই উদ্যোগও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে পারেনি। শুধু নতুন বই নয় সেই সঙ্গে উপবৃত্তি ও ফিডিং কর্মসূচি পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয় ঝরে পড়া রোধে। বলা চলে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে। গেল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ঝরে পড়েছে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই বছর আগে নিবন্ধন করেছিল ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৩ জন  শিক্ষার্থী। আর পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন। সেই হিসাবে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন ঝরে পড়ল।

এদিকে বাংলাদেশ শিক্ষা ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইন্স) জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৪৬ শতাংশ ছাত্রী দশম শ্রেণি শেষ করার আগেই ঝরে পড়ছে। ব্যান বেইসের এক জরিপে বলা হয়েছিল অভিভাবকদের নিম্ন আয়, বাল্য বিয়ে ও দারিদ্র্যই এর অন্যতম কারণ। বাল্য বয়সেই যেসব মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ঝরে পড়া। ঝরে পড়ার বড় কারণ হচ্ছে আমাদের সামাজিক অবস্থা। মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। কিন্তু সামাজিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। বিয়ের পর অনেক মেয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। ফলে তারা শিক্ষার ক্ষেত্র থেকে ঝরে পড়ে। শিক্ষার মানটিও খুব একটা ভাল স্থানে পৌছান সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়িক কারণে এক ধরনের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোচিং নির্ভর করছে। ফলে শ্রেণি কক্ষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারণে। এসব সমস্যা দূর করার মাধ্যমে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।