শিক্ষাঙ্গন থাকুক রাজনীতিমুক্ত

শিক্ষাঙ্গন থাকুক রাজনীতিমুক্ত

আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের শিক্ষাঙ্গন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দিনই হলে হলে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুয়েট ছাত্রলীগের অফিস এবং এই সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ পর্যন্ত ১৫১ জন খুন হয়েছেন। এসব অপরাধের জন্য কাউকে শাস্তি পেতে হয়নি। খুনের দায়ে আদালতের রায়ে শাস্তি হলেও অপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে নানা সময়ে ক্ষমা ঘোষণায়। শিক্ষাঙ্গনে যা ইচ্ছা তাই করা যায়। এমনকি খুন করেও শাস্তি এড়ানো যায় এই অপসংস্কৃতির জন্য একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। তবে এই প্রথম খুনের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাইকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতি দ্রুততর সময়ের মধ্যে। বলা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা অভিনন্দনযোগ্য।

বুয়েটের দেখানো এই পথ এখন দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অনুসরণ করা উচিত। বিশিষ্টজনের মতে, এখন যে ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে, তা মানুষকে কাঁদাচ্ছে, মেরে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের কোনো উপকারে আসছে না। যে ছাত্র রাজনীতি মানুষ হত্যা করে। সেই রাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো এখন পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, র‌্যাগিং, নিপীড়ন, নির্যাতন সর্বোপরি ছাত্র হত্যার মতো অপরাধ নষ্ট করছে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বহাল রেখে মানুষ তৈরির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাতে চাইলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান নৈরাজ্যের অবসান ঘটাতে হবে। চালাতে হবে লাগাতার শুদ্ধি অভিযান।