শিক্ষা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান

শিক্ষা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এক সঙ্গে সাত কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের সাতজন, জাতীয় শিক্ষা ক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আটজন এবং অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তারা সবাই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। তবে প্রেষণে বছরের পর বছর প্রশাসনিক পদ আঁকড়ে ছিলেন তারা। বদলিদের কেউ কেউ গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন নানা কারণে বিতর্কের সম্মুখীন। দেশে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রথমে এ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এখনও তা রোধ করতে পারেননি। শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্ক ওৎপ্রোত। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের শিক্ষা খাত ঘুষ-দুর্নীতি তথা অনৈতিকতায় নিমজ্জিত। এটি গোটা জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে, টিআইবির গবেষণায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশে এবং শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির ভয়াবহ সব তথ্য উঠে এসেছে। এটি এখন আর সংশ্লিষ্টদের অস্বীকার করার উপায় নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা যার সঙ্গে নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ জাতি গঠনের প্রশ্ন জড়িত- সে খাতের এমন সর্বব্যাপী দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত শিক্ষাখাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে, শীর্ষ কর্মকর্তারা তার দায় এড়াতে পারেন না। এ অবস্থা অব্যাহতভাবে চলতে দেয়া সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতারই শামিল। আমরা মনে করি, শুধু লোক দেখানো কয়েকজনকে বদলি করলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। শুদ্ধি অভিযান সফল করতে এ খাতে সর্বত্রই কঠোরভাবেই আইনের প্রয়োগ হতে হবে - যাতে দুর্নীতি সমুলে উচ্ছেদ হয়।