শাস্তির বিধান পরিবর্তন ছাড়াই সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন

শাস্তির বিধান পরিবর্তন ছাড়াই সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার শাস্তির বিধানে কোনো পরিবর্তন না করে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আইনের বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। দেরিতে হলেও আইনটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সড়ক পরিবহনের জন্য সবারই প্রত্যাশা ছিল আইনটি বাস্তবায়ন হোক। বিধি-বিধানের বিষয় আছে। আবার পরিবহনের দিক থেকে কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি ছিল। তারপরও আমরা এখনো যে যেটা বলুক আইনটা হয়েছে। আইনের কার্যকারিতা জাতির দাবি। এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।’

আইনে বিধি সংযুক্ত হলে কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যাই হয়েছে তাই রয়েছে। কিছু বিধি যোগ হতে পারে। বিধি তো মূল আইনের সংশোধনী, এখানে নেই। বিধি তো হবেই আইন থাকলে। বিধিতে আইনের মূল বিষয় যেগুলো যেমন শাস্তির বিষয় দণ্ডের বিষয় এগুলো যেভাবে ছিল সেভাবেই থাকবে।

জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পেশাদার বা অপেশাদার চালক গাড়ি চালালে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভা আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দেয়। আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়। গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্যও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পাস না করলে লাইসেন্স পাবেন না চালকরা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আইনে সাধারণ চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর এবং পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর। জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য ২ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। ফিটনেট চলে যাওয়ার পরেও মোটরযান ব্যবহার করলে ১ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধি অনুযায়ী, তিন রকমের বিধান আছে। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের সাজা হবে। খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে।

দুই গাড়ি পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় না পড়লেও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আইনে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে আইনে।

মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড করা হবে।

এছাড়া মদ পান করে বা নেশাজতীয় দ্রব্য খেয়ে গাড়ি চালালে, সহকারীকে দিয়ে গাড়ি চালালে, উল্টো দিকে গাড়ি চালালে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, চালক ছাড়া মোটরসাইকেল এক জনের বেশি সহযাত্রী ওঠালে, মোটরসাইকেলের চালক ও সহযাত্রীর হেলমেট না থাকলে, ছাদে যাত্রী বা পণ্য বহন, সড়ক বা ফুটপাতে গাড়ি সারানোর নামে যানবাহন রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো মোটরযান চলাচল করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।