শাজাহানপুরে পত্তন নেয়া জমিতে মরিচ চাষ করে বাছেদ এখন লাখপতি

শাজাহানপুরে পত্তন নেয়া জমিতে মরিচ চাষ করে বাছেদ এখন লাখপতি

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : নিজের জমি নেই। তবুও দমে যাননি বগুড়ার শাজাহানপুরের সাধড়া উত্তরপাড়া গ্রামের মনছের আলীর পুত্র হতদরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছেদ। এ বছর অপরের ৪০ শতক জমি পত্তন নিয়ে তাতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে তিনি এখন লাখপতি। বাম্পার ফলন ওয়ালা মরিচ ক্ষেত দেখে তার প্রতিবেশি এবং আশপাশ এলাকার কৃষকেরা অভিভূত। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্ত্রী এবং ২ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান নিয়ে ৩ সদস্যের এক ছোট্ট সংসার কৃষক আব্দুল বাছেদের। জীবন-জীবিকার জন্য বিগত ১০ বছর যাবত কৃষি কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন ৩০ বছর বয়সী আব্দুল বাছেদ। প্রকার ভেদে ওই এলাকায় প্রতি বিঘা জমির বার্ষিক পত্তন মূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

 নিজের জমি না থাকলেও পরের জমি পত্তন নিয়ে আলু, ধান, বেগুন চাষ করে আসছেন কৃষক আব্দুল বাছেদ। কৃষি আবহাওয়া, রোগ-বালাই, উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে কোন বছর ফসল চাষে তার লাভ হয় আবার কোন বছর লোকসান গুনতে হয়। এভাবেই চলছিল তার সংসার। হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চলতি বছর তিনি মাত্র ৪০ শতক জমি পত্তন নিয়ে তাতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং উপযুক্ত পরিচর্যা পাওয়ায় তার মরিচ ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। অপরদিকে কাঁচা মরিচের বর্তমান বাজার মূল্য ভাল হওয়ায় (প্রতি মন মরিচের পাইকারি মূল্য ২০০০-২১০০ টাকা) কৃষক আব্দুল বাছেদের ভাগ্য বদলেছে।

 তিনি জানিয়েছেন, জমি পত্তন নেয়া, চারা ক্রয়, শ্রমিক মজুরী, সেচ এবং সার ও কীটনাশক বাবাদ এপর্যন্ত ওই ৪০ শতক জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অপরদিকে ৩ দফায় মরিচ উঠেছে ৬৫ মন। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মৌসুমের শেষ নাগাদ ওই জমি থেকে আরও ৪-৫ দফা মরিচ তোলা যাবে। যার আনুমানিক মূল্য পাওয়া যাবে অন্তত: ২ লাখ টাকা। হতদরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছেদের সফলতার কথা তুলে ধরে গোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জনিয়েছেন, শুধু আব্দুল বাছেদ নয়, গোহাইলের অনেক দরিদ্র মানুষ যারা এক সময় পুকুরে জাল টানাতো কিংবা রিক্সা-ভ্যান চালাতো তারা এখন হাইব্রিড মরিচের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এসব মানুষের জীনবযাত্রা পাল্টে গেছে। এখন তারা দামী মোটর সাইকেলে চলাফেরা করেন। তবে তিনি দুঃখ করে বলেন, কতিপয় অসাধু বীজ এবং চারা ব্যবসায়ীদের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে আবার ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন। এসব প্রতারক বীজ ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো হলে কৃষক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবেন।