শপথ নিলেন ইমরান খান

শপথ নিলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সাবেক জনপ্রিয় ক্রিকেটার ইমরান খান। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাউস আইওয়ান-ই-সাদরে বিশেষ আয়োজনে শপথ নেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান।

শনিবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করান দেশটির প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন।

এর আগে শুক্রবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেলে জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হয়। এতে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ পিটিআই থেকে মনোনীত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই ও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা শাহবাজ শরিফ। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৭৬ সদস্যের ভোট পান ইমরান। আর শাহবাজ পান ৯৬ সদস্যের ভোট।

ইমরান তার বাসভবন বানিগালা থেকে ইসলামাবাদে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভবনে উপস্থিত হন। এসময় তার গায়ে কালো রংয়ের শেরওয়ানি ছিলো। এর কিছু সময় আগে তার স্ত্রী বুশরা ইমরানও প্রেসিডেন্ট ভবনে উপস্থিত হন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় শুরু হয়।

দেশটির জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা হয়।

শপথগ্রহণ শেষে ইমরান খান ও তার স্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে এসে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুলক, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার, সামরিক প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান, নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল জাফর মাহমুদ আব্বাসিসহ অনেক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

শপথ অনুষ্ঠানে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার নবজিত সিং সিধু, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা, তারকা ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, গায়ক সালমান আহমেদ, আবরারুল হক, অভিনেতা জাভেদ শেখও উপস্থিত ছিলেন।  

গত ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত দেশের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল পিটিআই’র প্রার্থী ইমরান খান একরকম প্রধানমন্ত্রী হয়েই ছিলেন।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে ইমরান খান দাবি করেন, দেশের সবচেয়ে সম্মানিত নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র পর তাকেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে আসতে হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, যারা দেশকে লুটে নিয়েছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না।

গত জুলাইয়ে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হয়। এতে জয় পেলেও সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি পিটিআই। এ কারণে জোট সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে ছোট রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যের দ্বারস্থ হন ইমরান।

ফাঁস হওয়া পানামা পেপার্সে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাকে গত বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট। এতে সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে নতুন নির্বাচন ডাকা হয়। নির্বাচনের আগে নিজের প্রচারণায় ‘নতুন পাকিস্তান’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার দেন ৬৫ বছর বয়সী ইমরান। দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়েও তিনি তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেন।

সমালোচকেরা অবশ্য মনে করেন, ইমরান পাকিস্তানের প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনীর আশীর্বাদেই সরকারপ্রধান হয়েছেন।

বিগত মেয়াদে নওয়াজ সরকার গঠনের পর থেকেই তার সরকারের পদত্যাগ দাবিতে সরব ছিলেন তিনি। পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়লে রাজপথ কাঁপিয়ে এর সুরাহার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। যার ফল নওয়াজ সরকারের পতন। আর নির্বাচনে তার পক্ষে সেনাবাহিনীর গড়াপেটার অভিযোগ এখন সব মহলেরই জানান।

তবে সব অভিযোগ আর বিতর্ক ছাপিয়ে এখন ইমরানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ‘নতুন পাকিস্তান’ গড়ার যে অঙ্গীকার দিয়ে সরকারের প্রধান পদে বসেছেন তিনি, সেটা কতোটা বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে ‘বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক’র ভক্তরা।