শপথ নিতে সরকারের চাপ আছে : ফখরুল

শপথ নিতে সরকারের চাপ আছে : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাহিদুর রহমানের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের চাপ ছিল বলে মনে করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে জাহিদ সংসদে যাওয়ায় বিএনপির খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু দেখছেন না তিনি। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফখরুল। সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব। গত ৩ এপ্রিল মহিলা দলের ২৬৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে। এটা তিনি অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন, অন্যায়-অপরাধ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে। যেটাকে আমরা বলি সাংগঠনিক ব্যবস্থা, সেটা অবশ্যই নেওয়া হবে।

 একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে দলের বড় কোনো ক্ষতি হয় না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ধরণের ঘটনায় দলে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, এই ধরণের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং এতে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ শপথ নিলে সংসদে তার সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে বিএনপি স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে কিনা- এমন প্রশ্নও রাখা হয়েছিল মির্জা ফখরুলের সামনে। উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। জাহিদের বিরুদ্ধে কী ধরণের সিদ্ধান্ত হতে পারে জানতে চাই তিনি বলেন, সেটা দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। জাহিদুর রহমান সংসদে যোগ দেওয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। দলের সিদ্ধান্ত নির্বাচিতরা মানছেন না, আরও অনেকে শপথ নিতে আগ্রহী-সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একজন গেছেন। বাকি যারা আছেন, যারা নির্বাচিত, তাদের সিদ্ধান্ত তো আমরা এখনো জানি না। তারা আমাদের জানাননি এখনো।

আমাদের দলের সিদ্ধান্ত যেটা ছিল, সেটাই বহাল আছে। আমরা শপথ গ্রহণ করবো না, এই বিষয়ে আর কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়। সরকার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করছে কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। বাংলাদেশে বরাবরই এই ধরণের দল ভাঙার প্রচেষ্টা হয়েছে, ভেঙেছে। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে এই ধরণের প্রচেষ্টা করে কখনো কোনো লাভ হয়নি। বিএনপি সব সময়ই ফিরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বমহিমায় জনগণের কাছে গেছে। শপথ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে নিঃসন্দেহে চাপ রয়েছে। যেটা সব সময়ই থাকে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তারাই এই ধরণের চেষ্টা করে থাকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। তিনি আরো বলেন, বিএনপি জনগণের দল। একটি গোষ্ঠী বা এক ব্যক্তি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দলের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি বড় কোনো কর্মসূচি নেবে কিনা- এ প্রশ্নে ফখরুল বলেন, আমরা বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্দোলনে-সংগ্রামে আছি। এটা ধীরে ধীরে জনগণের দাবিতে পরিণত হচ্ছে এবং হবে। এ সময় মহিলা দলের জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।