লিটনের সেঞ্চুরি, সোহানের ৩ রানের আক্ষেপ

লিটনের সেঞ্চুরি, সোহানের ৩ রানের আক্ষেপ

সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৪ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলার পর থেকেই রানখরা লিটন দাসের ব্যাটে। জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে, টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে জ্যামাইকা তালাওয়াজের হয়ে দুই ম্যাচ- কোনটিতে চল্লিশের ঘরেও যেতে পারেননি তিনি।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল জাতীয় দলে তার জায়গা নিয়ে। এমনকি ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে লিটনের নাম দেখেও ভ্রূ কুচকেছিলেন অনেকে। অনেকদিন ধরেই রানখরায় থাকা কাউকে আবারও দলে নেয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই ছিলো স্বাভাবিক।

তবে সেসব ভুলে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। যার প্রমাণ মিললো এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে তার খেলা প্রথম ইনিংসেই। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই উজ্জ্বল লিটন। সে ধারাবাহিকতায় এবারের জাতীয় লিগেও নিজের প্রথম ইনিংসেই হাঁকালেন সেঞ্চুরি।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তরুণ ওপেনার সাইফ হাসানের ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫৫৬ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ঢাকা বিভাগ। জবাবে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ভালোভাবেই এগুচ্ছে রংপুর।

আগেরদিন শেষ বিকেলেই হাফসেঞ্চুরি করে সেরা ছন্দের আভাস দিয়েছিলেন লিটন। আজ (শনিবার) ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে সেঞ্চুরি তুলে নিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। অনেকটা বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ১৩৩ বলে ১৩ চারের মারে করেছেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের ১৪তম সেঞ্চুরিটি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন লিটন। তাকে সঙ্গ দিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থাকা আরেক ব্যাটসম্যান নাইম ইসলামের সংগ্রহ ঠিক ৫০ রান। রংপুরের দলীয় সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৬৭ রান।


এদিকে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় পুড়েছেন স্থানীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কাজী নুরুল হাসান সোহান। তবে এতে তার নিজের দায় নেই বললেই চলে।

কেননা খুলনা ৩০৯ রানে অলআউট হয়ে গেলেও সোহান নিজে অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রান করে। দলীয় ২৩৮ রানের মাথায় অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক ফিরে গেলে শেষের তিন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আরও ৭১ রান যোগ করেন সোহান।

যেখানে রুবেল হোসেন (০), মোস্তাফিজুর রহমান (৯) ও আল-আমিন হোসেনের (১) সম্মিলিত অবদান মাত্র ১০ রান। তবু সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি সোহানের। তবে রাজশাহীর করা ২৬১ রানের বিপরীতে দলকে ৪৮ রানের লিড এনে দিয়েছেন তিনি।