লাল বলে দেখা মিলবে ভিন্ন এক তামিমের!

লাল বলে দেখা মিলবে ভিন্ন এক তামিমের!

বিশ্বকাপে ভাল খেলতে মুখিয়ে ছিলেন। নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতে এবং ইনজুরি এড়াতে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট খেলা থেকেও বিরত ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বিশ্বকাপে গিয়ে সেরাটা দেয়া তো বহুদুর, স্বাভাবিক পারফরমেন্সই দেখাতে পারেননি এ বাঁ-হাতি ওপেনার।

আর শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের সিরিজে আহত মাশরাফির পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে আরও খারাপ করেছেন। তিন ম্যাচে সাকুল্যে তার ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে মোটে (২+১৯+০ =) ২১ রান।


এবং শুধু রান কম করাই নয়। তামিম ইকবালকে তার মতও দেখা যাচ্ছে না। কেমন যেন এক আড়ষ্ঠ এবং খাপছাড়া মনে হচ্ছে বেশি। তামিম রান না করায় অন্য সব সময় যা হয়, তাই হয়েছে। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংস শক্ত ও সুদৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারেনি। যে কারণে স্কোরবোর্ড মোটাতাজা হয়নি। বাংলাদেশের খারাপ করার পেছনে সেটাও অন্যতম কারণ।

সামনেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক মাত্র টেস্ট। ওয়ানডের মত টেস্টেও তামিম এক নম্বর ব্যাটসম্যান। অথচ তার ফর্ম মোটেই ভাল নয়। ওয়ানডেতে রান পেতে কষ্ট হচ্ছে। এখন টেস্টে কি করবেন তামিম?

আসলে কোন ফরম্যাটেই তার বিকল্প নেই। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই তামিম দেশের এক নম্বর ওপেনার। রান তোলা, হাফ ও সেঞ্চুরি হাঁকানো এবং প্রতিপক্ষ বোলিংকে সাহস ও আস্থার সাথে মোকাবিলার কাজটি তামিম আসলে বেশ ভালোই পারেন।

তাই সব ফরম্যাটেই তামিমের ব্যাট সবেচেয়ে বড় নির্ভরতা। তারপরও সীমিত ওভারের ফরম্যাটে অফ ফর্মের তামিমকে বিশ্রামে রেখে সৌম্য-লিটন দাসকে দিয়ে ওপেন করানোর ঝুঁকি নিতে পারতেন টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা।

কিন্তু টেস্টে তামিমের জায়গায় কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। টেস্টে তামিম বরাবরই অন্যরকম নির্ভরতা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান (৫৮ টেস্টে ৪৩২৭), সর্বাধিক ফিফটি (২৭) আর সেঞ্চুরির (৯ টি) মালিক তামিম।

এবার বিশ্বকাপে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারা আর শ্রীলঙ্কা তিন ওয়ানডেতে যতই মাত্র ২১ রান করুন না কেন, ছয় মাস আগে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজেও তামিম আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিমূর্তি। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে তামিম অসাধারণ খেলেছেন।

তিন ম্যাচ সিরিজ হবার কথা থাকলেও মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। আগের দুই টেস্টের চার ইনিংসে ১২৮ বলে ১২৬ + ৮৬ বলে ৭৪, ১১৪ বলে ৭৪ আর ৪, তামিমের ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক সেঞ্চুরি আর আর দুটি বিগ ফিফটি।

সেই তামিম যদি এবার ঘরের মাঠে আফগানদের বিপক্ষে ভাল খেলতে না পারেন, তাহলে কি হবে? তা নিয়ে কম বেশি সবাই চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। তবে যার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করার কথা, সেই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু কিন্তু মোটেই চিন্তিত নন তামিমকে নিয়ে।

তার ধারণা, ওয়ানডেতে অল্প ক’টি ম্যাচে রান পাননি তামিম; কিন্তু টেস্টে ঠিকই নিজেকে খুঁজে পাবেন এবং নিজের সেরাটা খেলে ঠিকই ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে কার্যকর অবদানও রাখবেন বাংলাদেশের ইনিংসে।

সন্দেহ নেই তামিম বড় ব্যাটসম্যান; কিন্তু ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে বলে ‘ব্যাড প্যাচ, অফ ফর্ম’ তামিম এখন তেমন বাজে সময় কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় তামিম কি খুঁজে পাবেন নিজেকে?

নান্নুর ব্যাখ্যা, ‘হ্যাঁ সাময়িকভাবে তামিম হয়ত কয়েকটি ওয়ানডেতে রান পায়নি। তার মানে এই নয় যে, সে ব্যাটিং ভুলে গেছে। আর কখনো ভাল খেলতে পারবে না। এটা সাময়িক। সবার ক্যারিয়ারে একটু খারাপ সময় আসে। হয়ত তামিমেরও এসেছে; কিন্তু আমার মনে হয় না ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের সাথে টেস্টে ওই খারাপ ফর্ম বাঁধা হয়ে দাড়াবে। দেখবেন ঠিক তামিম ভাল খেলবে। রানও করবে।’

সেটা কিভাবে? প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘আসলে ওয়ানডের সাথে টেস্টের মিল নেই একটুও। প্রথম কথা ওয়ানডে হয় সাদা বলে। আর টেস্ট খেলা লাল বলে। সবকিছুই ভিন্ন। মেজাজ, ধরণ, ব্যাটিং টেকনিক, অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশন- ওয়ানডের মত নয়। তাই আমার মনে হয়, সাদা বলে সাময়িকভাবে খারাপ সময় কাটালেও তামিম ঠিক লাল বলে ভাল খেলবে এবং নিজেকে খুঁজে পাবে।’

প্রধান নির্বাচকের আশা পূরণ হলেই হয়। সমালোচক ও দুর্মুখেরা যত বিদ্রুপই করুক না কেন, আসল সত্য হলো, বাংলাদেশের উজ্জ্বল পারফরমেন্স ও ভাল ফলের জন্য তামিমের ভাল খেলা এবং রান করা খুব জরুরি দরকার।