লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

চিকিৎসা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গণমানুষের এ অধিকার পূরণে প্রথম থেকেই তুলনামূলকভাবে যতœবান ভূমিকা রেখেছে। দেশের চিকিৎসা খাতে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় জাতীয় বাজেটে। তবে অন্য দিকে দেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ হিসাব সরকারি সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই। এই ১৫ হাজার বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই গড়ে উঠেছে রাজধানীতে। বাকিগুলো ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন শহর-বন্দরে। নিত্য নতুন নামে, নানা সুবিধার প্রচার চালিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায়ও পৌঁছে গেছে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র, সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি সমীক্ষা প্রতিবেদন থেকেই জানা যায়, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় সবচেয়ে বেশি। ২০ বছরে ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৭ শতাংশ।

 অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য চিকিৎসা ব্যয় ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ২৩ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অন্য খাতের চেয়ে সহজে দ্রুত মুনাফা পাওয়ার আশায় এখন স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে বলেও মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বারবার চিকিৎসকদের স্মরণ করে দিচ্ছেন তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো। তিনি বহুবার এও বলেছেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন ধরনের গাফলতি চলবে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক চিকিৎসক তার এসব সতর্কবার্তা আমলে নিচ্ছেন না। আবার চিকিৎসা ব্যয় করতে গিয়ে মানুষ নি:স্ব হচ্ছে। চিকিৎসা বাণিজ্যকে রমরমা অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে এক শ্রেণির অসাধু মনোবৃত্তির উদ্যোক্তা। জনস্বার্থে এই অমানবিক স্বেচ্ছাচারের অবসান হওয়া উচিত।