লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন

কক্সবাজার প্রতিনিধি : শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, দেশে লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আয়োডিন ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। তা সম্ভব হয়েছে লবণ চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতার কারণে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে ‘লবণ চাষ ও অয়োডিনযুক্তকরণ: সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কর্মশালাটি দুপুর ১টায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী নূরুল বলেন, জাতীয় লবণনীতি-২০১৬ অনুযায়ী দেশে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর লবণের চাহিদা ১৬ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিক টন এবং উৎপাদন লক্ষমাত্রা ১৮ লাখ মেট্রিক টনের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় বর্তমানে  দেশে লবণের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই।

 কাজেই ঈদুল আজহায় চামড়া শিল্পসহ সারা বছর ব্যবহারের পরও লবণ উদ্ধৃত্ব থাকবে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, আমদানি নির্ভরশীল না হয়ে দেশে গুণগত মানসম্মত লবণ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় লবণ চাষের নতুন প্রযুক্তি পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি লবণ চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অধিক পরিমাণ গুণগত মাসসম্মত লবণ উৎপাদন সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশানুরূপ সচেতনতা সৃষ্ঠি হয়নি। তাই সরকারিভাবে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে অচিরেই দেশ থেকে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা নির্মূল হয়।

 অনুষ্ঠানে লবণচাষিদের পক্ষ থেকেও নানা সমস্যা, সীমাবদ্ধতার কথা  তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামপুর লবণ মিল মালিক বহুমূখী সমবায় সমিতির সভাপতি সামশুল আলম আজাদ বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণ চাষিরা লবণ উৎপাদন করলেও চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তাই লবণ শিল্পের উন্নয়নে প্রান্তিক চাষিদের দিকে সরকারের আরও বেশি নজর  দিতে হবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশে লবণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে সব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আরও বেশি  পরিমাণে মানসম্মত  লবণ উৎপাদন  নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও লবণ বোর্ড গঠন, চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি লবণ ক্রয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি থেকে বাঁচতে চাষিদের সরকারিভাবে পলিথিন সরবরাহ এবং আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানানো হয়।

 অতিরিক্ত সচিব এবং বিসিক এর চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মফিজুল হক, যুগ্ম- প্রধান ডা. মো. আখতারুজ্জামান, কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরওয়ার কামাল, বিসিকের পরিচালক মুহাম্মদ আতাউর রহমান ছিদ্দিকী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের পুষ্টি বিভাগের প্রধান পিয়ালী মুস্তাফী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা প্রমুখ। কর্মশালায় কক্সবাজারের লবণ চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।