রৌমারীতে এক ঢিলে দুই পাখি মেরে লাভবান মধু চাষি ও কৃষক

রৌমারীতে এক ঢিলে দুই পাখি মেরে লাভবান মধু চাষি ও কৃষক

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরিষা ক্ষেতে একদিকে সরিষা ও অন্যদিকে মধু চাষে এক ঢেলে দুই পাখি মেরে লাভবান হচ্ছে মধু চাষি ও কৃষককুল। এতে এক জমিতে, এক সাথে সরিষা ও মধু চাষ করে দুই দিকেই লাভবান হচ্ছে। একদিকে মধু সংগ্রহ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে সরিষা খামারের মাধ্যমে সরিষার ভালো ফলন করে প্রচুর অর্থের উপার্জন হচ্ছে।এ জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সরকারী ভাবে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সরিষা ক্ষেতে কৃষক এবং এলাকার সচেতন মহলকে মৌমাছির খামার তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষি অফিস তথ্য সুত্রে জানা গেছে শীতের শুরুতেই মধু চাষিরা মধু সংগ্রহ করতে আসে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষক মধু চাষের মাধ্যমে সরিষার ফলন বেশি পাবে এবং এলাকা থেকে মধু চাষিরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মেঃ টন মধু সংগ্রহ করতে পারবে। এতে প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা আয় করতে পারবে বলে জানান।

মধু চাষি সাতক্ষিরা জেলা থেকে আগত মোশারফ হোসেন ও স্থানীয় মধু চাষি ফরহাদ হোসেন জানান, প্রতি বছর রৌমারীতে প্রচুর সরিষার আবাদ হয়। এবার বন্যা না হওয়ার কারণে সরিষার আবাদ আরো বেশি হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে মধু চাষে উজ্জল সম্ভাবনা। এটা আগে এখানকার কেউ জানতো না। আমি সাতক্ষিরা জেলা থেকে প্রথম ২০১২ সালে মধু সংগ্রহের জন্য রৌমারীতে আসি। এবার সাতক্ষিরা, টাঙ্গাইল, পাবনা, সোনাইমুড়িসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩০-৩৫ টি দল রৌমারীতে মধু সংগ্রহের জন্য এসেছে। প্রতিটি দলে প্রায় ২ শত থেকে ৩ শত বাক্স আছে। এতে প্রতি বাক্সে সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে দেড় কেজি করে মধু সংগ্রহ হয়। আমরা এ এলাকায় ২৫-৩০ দিন থাকরো। এ কয়দিনে যে মধু সংগ্রহ হবে তাতে দিনমজুরিসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়েও আমাদের প্রতি দলের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভবান হবো। ২০১২ সালের পর থেকে আমাদের সাথে থেকে স্থানীয় ভাবে ফরহাদ নামের ছেলেটি মধু সংগ্রহের কাজ শিখেছে এবং তার ভাইও শিখে বর্তমানে ওরা এখানে মধু চাষ করছে। বর্তমানে অনেকেই মধু সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। মধু চাষে সরিষার ফলন বেশি হয়। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষিবিদ শাইখুল ইসলাম    

জানায়,  উপজেলায় এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আমাদের কৃষি অধিদফতরের মাধ্যমে মধু চাষিদেরকে এখানে এসে মধু চাষে মধু সংগ্রহের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বর্তমানে রৌমারীতে বিভিন্ন এলাকায় ২০-২৫টি দল ঢুকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। আমরা তাদেরকে উপ-সহকারীর মাধ্যমে খোজ খবর নিচ্ছি। প্রতিটি বাক্সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি করে মধু আসে। ঐ হিসাবে এবার মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মেঃ টন মধু আসবে। এতে বর্তমান বাজার ৩ শত টাকা মুল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। সব খরচ বাদে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আয় হবে মধু থেকে। এখানে প্রতিবছর যে পরিমাণ সরিষার আবাদ হয় তাতে মধু চাষে অর্থনৈতিক দিক থেকে উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই সম্ভাবনাটিকে কাজে লাগানোর জন্য খামারি ও সরিষা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং সরিষা ক্ষেতে কোন প্রকার পয়জন জাতীয় স্প্রে করতে নিষেধ করা হয়েছে। জাতে মৌমাছীর কোন ক্ষতি না হয়।