রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এডিবির ১০ কোটি ডলার ছাড়

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এডিবির ১০ কোটি ডলার ছাড়

করতোয়া ডেস্ক : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের জন্য প্রতিশ্রুত ২০ কোটি ডলার সহায়তার প্রথম কিস্তিতে ১০ কোটি ডলার ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে বলে এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় চার লাখ মানুষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে। আর গত বছর অগাস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নতুন দমন-পীড়ন শুরু হলে গত দশ মাসে এসেছে আরও সাত লাখ বেশি রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের ৩২টি ক্যাম্পে থাকা এই রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার, আশ্রয়, খাবার পানি, স্বাস্থ্য সেবা, পয়ঃনিষ্কাশন এবং অন্যান্য জরুরি সেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুল চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এডিবি বলছে, এই চ্যালেঞ্জে সাড়া দেওয়া না হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটবে। এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকিহিতো নাকাও বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা দিতে আমরা বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। গত মে মাসে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর ২০ কোটি ডলার দেওয়ার এই উদ্যোগ নেয় এডিবি।

 এর প্রথম কিস্তির ১০ কোটি ডলার দিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবাসন নির্মাণ করা হবে, যেখানে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পে সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে খাদ্য সরবরাহ, মজুদ, হাসপাতাল ও স্কুলে যাওয়া-আসার পথ সহজ হয়।  এছাড়া ওই অর্থে মোবাইল ওয়াটার ক্যারিয়ার কেনা, গণস্নানাগার নির্মাণ, পানি সরবরাহের পাইপ লাইন স্থাপন ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে; নির্মাণ করা হবে দুটি ছোট পানি শোধনাগার। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে রাস্তায় বাতির ব্যবস্থা করা হবে এবং সেজন্য গড়ে তোলা হবে মিনি গ্রিড লাইন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।  জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক ও অন্যান্য দাতা ও সাহায্য সংস্থার সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১২ কোটি ডলার, সময় লাগবে আড়াই বছর। প্রথম কিস্তিতে যে ১০ কোটি ডলার এডিবি দিচ্ছে, তার যোগান দেওয়া হবে তাদের এশীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে। আর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ২ কোটি ডলার। প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে দ্বিতীয় কিস্তির ১০ কোটি ডলার ছাড়ের সময় ঠিক হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।