রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন

বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। সারা বিশ্বে এটা কোনো একটি দেশে সর্বাধিক সংখ্যক শরণার্থীর রেকর্ড। ১৬ কোটিরও বেশি জনভারে এমনিতেই বিপর্যস্ত এদেশে বছরের পর বছর ধরে বসবাসরত শরণার্থীর ভার বহন করা যে অত্যন্ত কষ্টকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কথা ছিল আন্তর্জাতিক আইন মেনে মিয়ানমার দ্রুততম সময়ে তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু মিয়ানমার আজ পর্যন্ত একজনকেও ফিরিয়ে নেয়নি। আন্তর্জাতিক মহলও যেন ধীরে ধীরে ভুলতে বসেছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ছোট এই দেশটিকে। এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের অনীহার কথা সরাসরি বললেন। জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড এই তিন দেশ সফর করে এসে তিনি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের (মিয়ানমার সরকার) সঙ্গে যোগাযোগও আছে। কিন্তু ওইভাবে তাদের সাড়াটা পাই না। বলাই বাহুল্য, রোহিঙ্গা ইস্যুটি বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা। আমরা জানি সরকার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে বিদেশি জনমত গঠনের জন্যও জোর কূটনীতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সক্রিয় হতে হবে। চুক্তির সব শর্ত মানতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার নীতি অবলম্বন করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।