রোহিঙ্গাদের ঠেলে দিতে চায় মিয়ানমার

রোহিঙ্গাদের ঠেলে দিতে চায় মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যা এখনও থামেনি। এখনও সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের নারী ও মেয়ে শিশুরা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। তাদের পরে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব এন্ড্র গিলমোর এ অভিযোগ করেন। এদিকে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রাখাইনে জাতিসংঘ কর্মিদের প্রবেশাধিকার দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে  চারদিনের সফর শেষে সাক্ষাৎকারে এন্ড্র গিলমোর বলেন, ‘রাখাইনে এখনও বহু মানুষ না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সংখ্যালঘু এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর এখনও লোকজন গুম হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়ে শিশুরা এর শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে ফিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে নিরাপদে বসবাস করা অসম্ভব। বাংলাদেশ সীমান্তে শূন্য রেখায় আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা ব্যক্ত করে বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, এসব মানুষের নিশানা করে গত সপ্তাহ থেকে মিয়ানমার যে সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছে, তা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার যাতে নির্দিষ্ট সময়ে ফিরিয়ে নিতে টালবাহানার আশ্রয় না নেয় সে ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ এবং বিশ্ব সমাজের চাপও অব্যাহত রাখতে হবে। রাখাইনে যাওয়ার পর তাদের বাসস্থান, নাগরিকত্ব সহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে রাখতে হবে।