রোহিঙ্গাদের এনআইডি: চট্টগ্রামে ইসির কর্মচারী ধরা

রোহিঙ্গাদের এনআইডি: চট্টগ্রামে ইসির কর্মচারী ধরা

রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মচারী ধরা পড়েছেন।

জয়নাল আবেদীন নামে ওই পিয়নের পাশাপাশি তার বন্ধু বিজয় দাস এবং তার বোন সীমা দাসকে ধরা হয়েছে। বিজয় গাড়িচালক, তার বোন হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন।

এর চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান।

শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা অনেক রোহিঙ্গারে জাতীয় পরিচয়পত্র করে পাসপোর্টও নেওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর তা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

আর তাতেই তিনজন ধরা পড়ে বলে সোমবার বিকালে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এতে অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, ইসির যুগ্মসচিব এনআউডি পরিচালক আব্দুল বাতেন।

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে এই অপচেষ্টার সঙ্গে আমরা কক্সবাজারে দু’জন দালালের সম্পৃক্ততা পাই। তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া আমাদের একজন পিয়ন এর সঙ্গে জড়িত আছে।”

অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর বলেন, “জয়নাল আবেদীন নামে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের ওই পিয়ন রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অপচেষ্টায় জড়িত ছিল, এটা প্রাথমিক তদন্তে এসেছে।

“তার বিরুদ্ধে আমরা ফৌজদারি মামলা এবং বিভাগীয় মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেন, ল্যাপটপের কারণে ধরা পড়েন জয়নাল।

জয়নাল প্রথমে দাবি করেছিলেন, তার ল্যাপটপটি হারিয়ে গেছে। পরে স্বীকার করেন, তা বন্ধু বিজয়কে দিয়েছেন। ওই ল্যাপটপটি বিজয়ের বোনের কাছে পাওয়া যায়।

মোখলেসুর ঢাকায় ব্রিফিংয়ে বলেন, “এতে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটাও আমরা দেখছি। ভোটার করতে পারেনি, আইডি দিতে পারেনি, এটেম্প নিয়েছে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “কোনোমতে রোহিঙ্গাদের কেউ যাতে এনআইডি কার্ড যাতে না পায়, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তারা (রোহিঙ্গা) ভোটার হতে পারবে না।”

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, “আমরা অত্যন্ত সচেতন। কোনো রোহিঙ্গা বা বিদেশিকে অন্তর্ভুক্ত হতে দেব না। যে স্ট্যাটাসের হোক, যে সংগঠনের হোক অপচেষ্টাকারীর বিরুদ্ধে আমার আইনানুগ ব্যবস্থা  নেব।”

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে

চট্টগ্রামের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান এনআইডি উইংয়ের পরিচালক খোরশেদ আলম  বলেন, “আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। বিস্তারিত এখন বলতে পারবো না। এ সপ্তাহে কমিশনে প্রতিবেদন দিলেই পুরোচিত্র পাওয়া যাবে।”

ইসির এক কর্মীর সম্পৃক্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা একটি অংশ। আমরা প্রতিবেদন দিলে কমিশন এ নিয়ে বলবে। কারা সম্পৃক্ত তা তুলে আনার চেষ্টা করব।”

২০১৪-২০১৫ সালের চুরি যাওয়া ল্যাপটপের মাধ্যমে অপতৎপরতা চালাচ্ছে কি না, তাও নিশ্চিত নন এ কর্মকর্তা।

“ওই সময় ইসির ল্যাপটপ চুরি যাওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি হয়েছিল, মামলা হয়েছিল। কয়েকজনকে ধরাও হয়েছিল।”

কোনো রোহিঙ্গা ভোটার হতে পারবে না: ডিজি

এনআইডি উইংয়ের ডিজি সাইদুল বলেন, বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গার আঙ্গুলের ছাপ ও তথ্য নিয়ে রোহিঙ্গা সার্ভার প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন কেউ চাইলেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার অপচেষ্টার প্রবণতা তুলে ধরে তিনি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিশেষ কার্যক্রম শেষ করে সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। এরপর ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং করে যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য, কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

“এখন যাদের তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তাদের আঙ্গুলের ছাপ ও তথ্য প্রথমেই রোহিঙ্গা সার্ভারে ম্যাচ করে দেখা হচ্ছে। কারও তথ্য এই সার্ভারে ম্যাচ করলে মূল সার্ভারে আর যাওয়াই হবে না। এছাড়া খসড়া প্রকাশের পূর্বে আমরা ম্যচিং করব। কাজেই তারা ভোটার হতে পারবে না।”