রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা। তারা বর্তমানে রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় বসবাস করছে। তাদের অবশ্যই নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়েও নিতে হবে। জোলি আরো বলেন, মিয়ানমার বাহিনী তাদের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। নারকীয় নির্যাতনের শিকার হয়েই লাখ লাখ রোহিঙ্গা  আজ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নির্যাতিত এই রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর সহায়তা চেয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী। আমাদেরও প্রত্যাশা জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলির এ আহবান পূরণ যথাশীঘ্রই। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রু-ডোর মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বররে সফর করছেন বাংলাদেশ।

বিদেশি কূটনীতিকদের সব সফরেই গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে রোহিঙ্গা ইস্যু। শুধু এখন নয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ ও শিবিরে আশ্রিতদের বিভিন্ন সংকট নিয়ে কথা বলতে ভিভি আইপিদের সফরের শেষ নেই। প্রাণের ভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সহযোগিরা বাংলাদেশের পক্ষে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এটা যে সাময়িক ব্যবস্থা, তা ভুলে গেলে চলবেনা। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও  মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদন করলেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। প্রকাশিত খবর থেকে এটা স্পষ্ট যে মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা আশা করি নিরাপদে নিজেদের অধিকার সহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যকরভাবে এগিয়ে আসবে।