রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন সংকটে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন সংকটে বাংলাদেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশই প্রস্তুত ছিল। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে তৈরি করা হয়েছে প্রত্যাবাসনের জন্য ট্রানজিট ক্যাম্প। ভৌত অবকাঠামোসহ প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের মাঠ পর্যায় থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও শেষ পর্যন্ত আটকে গেল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। এতে প্রমাণ হতে আর বাকি নেই প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে আন্তজার্তিক একটি বড় শক্তি কাজ করছে। আর এই সত্য প্রমাণের মধ্যদিয়ে পুরো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পক্রিয়াই হুমকির সম্মুখিন হল বলে মনে করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন আমরা শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আসছি, প্রথম দিকে রোহিঙ্গারাও বলেছিল মিয়ানমার ফিরিয়ে নিলে তারা ফিরে যাবে। কিন্তু রোহিঙ্গারা আজ প্রত্যাবাসন বিরোধী যে কর্মকান্ড দেখালো এটা তো আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ালো। পাশাপাশি এটা আমাদের  দেশের জন্যও হুমকি। এতে ভবিষ্যতে যে এরা দেশদ্রোহী কর্মকান্ডে জড়াবেনা তার গ্যারান্টি কে দিবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘভূক্ত কিছু কিছু সংস্থার কারণেই রোহিঙ্গারা এতটা স্পর্ধা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, উখিয়া টেকনাফে স্থানীয়রা এখন সংখ্যালঘু। আমরাই এখন রোহিঙ্গা দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি।

 স্থানীয়দের জমিজমা দখলে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। তিনি বলেন,এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মাঝে উল্লাস চলছে,স্থানীয়দের মাঝে হতাশা, আর মুচকি মুচকি হাসছে জাতীসংঘ ভূক্ত সংস্থাসহ উন্নয়ন সংস্থার লোকজন। আর গভীর সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তিনি বলেন,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আন্তজার্তিক ইস্যু,তাই এ বিষয়ে যেকোনো পরিকল্পনা পরিকল্পিতভাবে নিতে হবে। 'ইউনিসেফের হিসাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বছরে অন্তত ৬০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী ফেরত নিবে প্রতিদিন দেড়শ রোহিঙ্গা। সে হিসাবে বছরে ৩৬৫ দিনই যদি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায় তাহলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ হাজার। এ অবস্থায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে সময় লাগবে অন্তত ২২ বছর। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হল,বছরে কম হলে এখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার  শিশু জন্ম নিচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া এসব শিশু বেড়ে উঠছে ,বাংলাদেশের ভৌগলিক পরিবেশে। আগামী ২০- ২২ বছর পরে এসব রোহিঙ্গা শিশুরা কি আর মিয়ানমারে ফিরতে চাইবে? তবুও আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। কিন্তু এখন হতাশা আরো বাড়িয়ে দিল। এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন বিশিষ্ট গবেষক ড. আছিং রাখাইন। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে প্রথমত আমরা অর্থনৈতিক সমস্যা সমস্যায় পড়েছি,আবাসন এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে,যাতে করে আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো যায়।

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী বলেন, প্রত্যাবাসনের সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা এবং উদ্যোগের অভাব ছিলনা। তবুও জাতীসংঘ এবং রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এতে করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নতুন করে হুমকির মুখে পড়লো। তবে সবচে শঙ্কার বিষয় হল এ বিষয়টি নিয়ে সুযোগ নিতে চাইবে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সিদ্বান্ত অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে উখিয়ার জামতলী ও টেকনাফের উনচিপ্রাং শরণার্থী শিবির থেকে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০জন রোহিঙ্গাকে প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন শুরু করার কথা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম ও টেকনাফের কেরুনতলী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন দেড়শজন রোহিঙ্গাকে মিয়নমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্বান্ত হয়।  এ প্রক্ষিতে বৃহস্পতিবার ৩০ পরিবারের ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে প্রত্যাবাসনের কথা ছিল। এমনকি  প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দুই দেশের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারনে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আবারও গভীর অনিশ্চয়তার পাশাপাশি হুমকির  মুখে পড়ল বাংলাদেশ।