অগ্নিঝরা ৭ মার্চ আজ

রেসকোর্সের মহাকাব্য

রেসকোর্সের মহাকাব্য

করতোয়া ডেস্ক : “একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে/ লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে/ ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে-/ ‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’ শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/ অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন। তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা- ; কে রোধে তাঁহার বজ্র কণ্ঠ বাণী? গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শুনলেন তাঁর/ অমর কবিতাখানি: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই থেকে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আমাদের।” আজ কবি নির্মলেন্দু গুনের সেই মহাকাব্যের দিন। অগ্নিঝড়া ৭ মার্চ আজ। ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।  যে মহাকাব্য দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে গণমানুষের অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে । জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চে ১৮ মিনিটের সুমধুর ভাষণটি ১২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ৭ মার্চের রেসকোর্সের ভাষণ তরুণ প্রজন্মের ইতিহাস শেখার এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের নির্যাতনের ইতিহাস জানার এক অসাধারণ অস্ত্র।

 কেবল বাংলাদেশই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতির উপর যে ধরণের নির্যাতন করেছিল, তা আজ শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের বদৌলতে বিশ্ববাসী জানে। ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’ অর্ন্তভুক্ত করে। তাতেই বোঝা যায় ৭ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ৭ মার্চের চেতনা অসম্প্রদায়িক ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার, ৭ মার্চের অনুপ্রেরণা অক্ষুন্ন থাকুক যুগ যুগান্তরে এবং তা বয়ে বেড়ায় তরুণদের প্রাণে যাতে তরুণ প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়।আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দিবসটি উপলক্ষে আজ আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।