রেলের সম্পদ বেদখল

রেলের সম্পদ বেদখল


বাংলাদেশের পুরানো রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ মাধ্যমে হিসেবে রেলওয়ের অনেক ভূ-সম্পদ রয়েছে। তবে বেদখল হওয়ায় দিন দিন এই সম্পদের পরিমাণ কমে আসছে। সারা দেশে বাংলাদেশ রেলের প্রায় তিন হাজার ২১৩ দশমিক ৭৮ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৭৫০ একর এবং পশ্চিমাঞ্চলে দুই হাজার ৭১৫ দশমিক ৯১ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। রেলের ভূ-সম্পদ বিভাগ সূত্রে প্রকাশ, এখন পর্যন্ত রেলের মোট জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮২০ দশমিক ৩৫ একর। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে জমি আছে ৩৭ হাজার ৪১৯ দশমিক ৩৫ একর এবং পূর্বাঞ্চলে আছে ২৪ হাজার ৪০ দশমিক ১ একর। সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে ২০১৯ এর জুলাই মাস পর্যন্ত এক বছরে পশ্চিমাঞ্চলে বেদখল জমি উদ্ধার হয়েছে ১৬ দশমিক ২৩ একর। একই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলে উদ্ধার হয়েছে ৭৭ দশমিক ৪৪ একর জমি। রেলওয়ের জমিজমা দখল করে অনেক কুখ্যাত অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা রীতিমতো সাম্রাজ্যের অধীস্বর হয়ে বসেছিল। ছোটো খাটো আরও অনেক সন্ত্রাসী-অপরাধী এখনও রেলের সম্পদ লুন্ঠনে লিপ্ত। এসব লুন্ঠনে রেলের অভ্যন্তরীণ একটি অসাধু চক্র মদদ দেয় এটা সর্বজনবিদিত। সারা বিশ্বে যোগাযোগ মাধ্যমে রেলের চাকচিক্য বেড়ে চলেছে আর আমাদের এখানে পরিলক্ষিত হচ্ছে এর বিপরীত চিত্র। ট্রেন দুর্ঘটনা, সিডিউল বিপর্যয়, সেবার নিম্নমান, সংশ্লিষ্ট অসাধুদের লুটপাট আর ক্ষমতাবানদের রেলের সম্পদ পকেটস্থ করার অশুভ পাঁয়তারা বাংলাদেশ রেলওয়ে পঙ্গু করে ফেলছে। রেলকে বাহুমুক্ত করার দায় সরকারের। রেলওয়েকে উজ্জল করতে হলে, একে লাভজনক করতে হলে এ খাতের ব্যবস্থাপনা গত সব ত্রুটি মারাতে হবে নির্মোহভাবে। রেলওয়ে আবার যাত্রী সাধারণের উন্নত সেবার প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়াবে- এটা প্রত্যাশা।