রেলওয়ের উন্নয়ন

রেলওয়ের উন্নয়ন

আধুনিক বিশ্বে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে রেলপথই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ যাত্রী অনুপাতে রেল গাড়ির পরিবেশ দুষণ কম হওয়া এবং তুলনামূলক বিচারে সর্বাধিক নিরাপদ হওয়া। রেলওয়ে যোগাযোগ হতে পারত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী যোগাযোগ। অথচ তা হয়নি। রেলখাতের উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। রেল সেবাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে নেওয়া হয়েছে মাস্টার প্ল্যান। গত ১০ বছরে পরিচালনা ব্যয় সহ রেলখাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। চলমান রয়েছে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে উন্নয়ন সহযোগিরাও। লোকসান কমাতে আলোচিত সময়ে দু’বার রেলের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এত কিছুর পরও বাড়েনি রেলের সেবার মান, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নেও রয়েছে চরম উদাসীনতা। যার ফলে এই কোরবানি ঈদে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

এমনও হয়েছে শনিবারের ট্রেন ছেড়েছে রবিবার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেল সেবার মান বাড়াতে মন্ত্রণালয় বদ্ধ পরিকর। কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিকল্পনা বলছে, সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার পরও নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্প শেষ হচ্ছে না। বছরের প্রথম থেকেই অর্থ ছাড় করায় প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। কিন্তু অর্থ ব্যয় না হওয়া দু:খজনক। বিগত দিনগুলোতে রেলপথ উন্নয়ন এবং রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য বাইরে থেকে যে সাহায্য এসেছে তারও পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা যায়নি। এখানে সংস্কার কাজে যেটুকু অগ্রগতি দেখা গেছে নতুন রেলপথ নির্মাণে সে তুলনায় অগ্রগতি খুবই কম। সংস্কার কাজে লাভ বেশি। সে কারণে সংস্কার কাজগুলি দ্রুত হচ্ছে। কিন্তু ধীরগতিতে এগোচ্ছে সবগুলি রেল লাইন স্থাপনের কাজ। সরকারকে এ বিষয়ে অবশ্যই উদ্যোগী হতে হবে। কাজের সিদ্ধান্ত নেবার পরও যদি কোনো পক্ষের গাফলতির কারণে এ কাজ পিছিয়ে যায় সেটি জাতীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ যেন এসব নির্ধারিত কাজ বিলম্বিত না করতে পারে।