রূপার ধর্ষকদের শাস্তি

রূপার ধর্ষকদের শাস্তি

গত বছরের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপা নামের এক তরুণীকে উপর্যুপরি ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাড় মটকে ফেলে রেখে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এই বহুল আলোচিত রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাঁচ আসামীর চারজনকেই ফাঁসি এবং একজনকে সাত বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা স্বস্তিদায়ক। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল সোমবার এ রায় দেন। উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ আগস্ট কলেজ ছাত্রী রূপা বগুড়া থেকে পরীক্ষা দিয়ে ছোঁয়া পরিবহণের একটি বাসে করে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন। পথে চলন্ত বাসে কতিপয় ব্যক্তি তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। রূপা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় আদালত জরিমানার এক লাখ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত বাসটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

এটিও একটি ব্যতিক্রর্মী পদক্ষেপ। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো মামলাটির দ্রুত বিচার, মামলাটি আদালত আমলে নেন ২৩ নভেম্বর। আর সেদিন থেকে শুরু করে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য শুরু ও যুক্তিতর্ক। সব মিলিয়ে মাত্র ১৪ কার্য দিবসে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রূপা হত্যার নৃশংস ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল মানুষ। সত্য হল, দেশে এ রকম আরও অনেক আলোচিত-অনালোচিত ঘটনার বিচার রয়েছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এমনিতর বিলম্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে কুমিল্লার কলেজ ছাত্রী তনু হত্যা মামলা, রূপার হত্যার বিচার হলো দ্রুত গতিতে। অথচ তনু হত্যা মামলা আটকে থাকা রহস্যজনক। রূপা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।