রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প

রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প

পাবনার রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরমাণু জ্বালানি সক্ষমতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন আরও একধাপ এগিয়ে গেল। আশা করা হচ্ছে প্রথম ইউনিটে ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিটে ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। দুই ইউনিট মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে মোট দ্ইু হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করে আমাদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইড লাইন এবং আন্তর্জাতিক মানদ  অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। ফলে এরই মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে।

আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুফল পেতে চাই। এ ক্ষেত্রে সরকার যে নিশ্চয়তা দিয়েছে, তার যথাযথ প্রতিফলন আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা আশ্বস্ত যে, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরমাণু কেন্দ্রের ঝুঁকির ব্যাপারে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে এবং ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় পরিত্যক্ত রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুল গতি সঞ্চারনের কৃতিত্ব বর্তমান সরকার পেতেই পারে। আমরা আশাবাদী যে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।