রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া

রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুর পৌনে ২টায় প্রায় ২ ঘণ্টা পর বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত পৌঁছান তিনি।

তার উপস্থিতিতে বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান রায় পড়া শুরু করবেন। এ মামলার অপর দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদকে আগেই এজলাসে আনা হয়েছে।

সাত রাস্তা মোড় এলাকায় এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর। কড়া নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও আটকানো যায়নি নেতাকর্মীদের ঢল। সাত রাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে গাড়ি বহর পৌঁছালে বাড়তে থাকে নেতাকর্মীদের ভিড়।

কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি বহর ঘিরে ফেলেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এতে দ্রুত এগোতে পারছে না খালেদার গাড়ি বহর। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবীব-উন নবী খান সোহেলকে গাড়ি বহরের ঠিক সামনে দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে আদালত পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসেন বহর। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান খালেদা।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

জিয়া অরফানেজ মামলায় ২৬১ কার্যদিবসে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ২৮ কার্যদিবস আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবস যুক্তি-তর্ক শুনানি গ্রহণ করা হয়। এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষে পাঁচজন আইনজীবী যুক্তি-তর্ক শুনানি করেন।

খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামির বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণিত হয়নি দাবি করে সব আসামির খালাস দাবি করেছেন। এছাড়া ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ন্যায় বিচার হলে এই মামলায় সাজা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, জিয়া অরফানেজে এতিমদের নামে টাকা আনা হলেও কোনো এতিমের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি। কোথাও কোনো এতিম দেখাতে পারেনি। তারা এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা তা ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি। আমরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি, এই মামলায় সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার।

এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলার তদন্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। এসময় তিনি খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।