রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি

রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি

সড়ক দুর্ঘটনা পৃথিবীর সব দেশেই ঘটে থাকে, কিন্তু সেটা কদাচিৎ। আমাদের দেশে যে হারে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা দায়িত্বে অবহেলা ও নানা অব্যবস্থাপনা এর অন্যতম কারণ। অনাকাঙ্খিত প্রাণহানির সব ঘটনাই শোকের। স্বজনদের সঙ্গে গ্রামে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি দৃষ্টে মনে হয়, সড়ক দুর্ঘটনাজনিত ধারাবাহিক মৃত্যু যেন নিয়তি নির্ধারিত। এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে প্রতিদিনই। প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। কিছুতেই থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। প্রতি বছরই ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে শঙ্কায় থাকে মানুষ। ঈদের আগে ও পরে ঘরমুখো মানুষের চাপ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ সংকট দেখা দেয়। এই সুযোগে ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাত্রী বহনের জন্য রাস্তায় নামানো হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি। তা ছাড়া এসব গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যাত্রী ও অন্যান্য গাড়িতে বেশি ভাড়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও স্বল্প মায়ের মানুষেরা এক রকম বাধ্য হয়ে এসব গাড়িতে যাত্রা করে। কিন্তু গাড়ির সংকটকে অজুহাত করে ফিটনেসবিহীন এসব গাড়িকে রাস্তায় নামতে দেওয়া যাবে না। ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি গাড়ির বিষয়টি সরকারকে আগে থেকেই মাথায় রাখতে হবে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে যেন নির্ধারিত ভাড়া দিয়েই মানুষ নিরাপদে ভালো গাড়িতে বাড়ি ফিরতে পারে। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন, কোনও একটি ঘটনার বিচার হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত মেলা ভার। বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোনও কিছু চলতে থাকলে তার পুনরাবৃত্তি তো ঘটবেই। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়ক যেন কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি নামতে না পারে। সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে -এটাই আমাদের প্রত্যাশা।