রাশয়িা সংক্রান্ত নথি চয়েে ট্রাম্পরে প্রতষ্ঠিানরে প্রতি সমন

রাশয়িা সংক্রান্ত নথি চয়েে ট্রাম্পরে প্রতষ্ঠিানরে প্রতি সমন

করতোয়া ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তকারী দলের প্রধান রবার্ট মুলার এবার নথি চেয়ে সমন পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে। ট্রাম্পের নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহে রাশিয়া অর্থ ঢেলেছে কি না তা খতিয়ে দেখতে এসব নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। মুলারের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশ করা নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সহযোগীর ইমেইলে রাশিয়াতে ট্রাম্প টাওয়ার বানানোর প্রস্তাবের উল্লেখ ও ট্রাম্পের গল্ফ ক্লাবে রাশিয়ার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তার ছেলের দেওয়া তথ্যেরও উল্লেখ রয়েছে।রবার্ট মুলার যে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে নথি দিতে বলে সমন পাঠিয়েছেন সে খবর সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তি নিয় ইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। সূত্ররা জানিয়েছেন, সাধারণভাবে প্রতষ্ঠানটির কাছে নথি না চেয়ে কেন সমন জারি করা হয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। মূলত তদন্তের প্রয়োজনে বেশ কিছু নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়া সংক্রান্ত নথিও রয়েছে। সমন পাওয়া প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন মূলত ট্রাম্পের সব ব্যবসা দেখভালকারী কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, নথি চেয়ে পাঠানোর এই বিষয়টি সামনে আসায় বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্পের আইনজীবীদের প্রত্যাশা মোতাবেক খুব সহসাই শেষ হয়ে যাচ্ছে না তদন্ত। বরং মুলারের এই পদক্ষেপ নিশ্চিত করেছে, তদন্ত চলবে আরও অনেকদিন। মুলার এর আগে সমন জারি করেছিলেন। ট্রাম্পের সাবেক পরিকল্পনাবিদ স্টিভ ব্যাননকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছিল তাকে। পরে ব্যানন তদন্তকারীদের প্রশ্নের জাবাব দিতে রাজু হলে তুলে নেওয়া হয়েছিল ওই সমন।
ট্রাম্পের নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে বিদেশিরা টাকা ঢেলেছে কি না তা জানতেই মুলারের এই সমন। শুধু রাশিয়ার অর্থ নয়, আরব আমিরাত তথা মধ্যপ্রাচ্য তাদের নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের সমর্থন পেতে নির্বাচনে অর্থ ঢেলেছে কি না  সেটা নিয়েও মুলার তদন্ত করছেন। এর আগে আরব আমিরাত যুবরাজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জর্জ নাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মুলার ইতিমধ্যেই ১৩ রুশ ব্যক্তি ৩টি রুশ প্র্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠান এর আগে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চেয়ে পাঠানো নথি দিতে কোনও গড়িমসি করেনি। মুলারের চেয়ে পাঠানো নথির বিষয়েও গড়িমসি করার কোনও কারণ দেখছে না নিউ ইয়র্ক টাইমস। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পক্ষে আইনজীবী অ্যালান এস ফুটারফাস বলেছেন, ‘আমরা সর্বসাধারণকে ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকেই জানিয়ে আসছি, বিশেষ তদন্তকারী ও  তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের প্রতি আমরা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।’ হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবার্ট মুলারের তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং মুলারের অন্যান্য প্রশ্নের উত্তরের জন্য তাকে তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন।হোয়াইট হাউস যা-ই বলুক না কেন, জুলাই মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া ছাড়া মুলার যদি তার পারিবারের আর্থিক অন্য কোনও বিষয়ে হাত দেন, তাহলে তা মুলারের জন্য সীমালঙ্ঘনের বিষয় হবে। মুলার যদি সীমালঙ্ঘন করেই ফেলেন তখন তিনি কিভাবে তার মোকাবেলা করবেন, এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ব্যবসা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নয়। ফলে এর অর্থের যোগান ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি সহজে পাওয়া যায় না। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে, ট্রাম্পের প্রতষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ায় তাদের আবাসন নির্মানের কোন ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। কিন্তু সম্প্রতি মুলারের কাছে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী ফেলিক্স সাতের ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেনকে ইমেইলে জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যোগাযোগ আছে এবং রাশিয়েতে ট্রাম্পের নামে একটি বহুতল ভবন নির্মান করলে তা ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় সহায়ক হবে। সাতের এই ইমেইল পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প অর্গানাইজেশনর নামে থাকা কোহেনের ইমেইল ঠিকানায়।

ট্রাম্পের মেঝ ছেলে এরিক ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নিয়েও ট্রাম্প-রাশিয়া সংযোগ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার  গল্ফ খেলোয়াড় জেমস ডডসন এক রেডিও অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালে বলেছিলেন, এরিক ট্রাম্পের কাছ থকেই তিনি জেনেছিলেন যে গল্ফ ক্লাবগুলোর জন্য ট্রাম্প রুশ বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করেন। রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে তদন্ত করতে রবার্ট মুলারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের মে মাসে। এক মাস পরেই ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ডোনাল্ড এফ ম্যাকঘানকে বলেছিলেন ট্রাম্পকে বরখাস্ত করতে। ট্রাম্পের ওই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ম্যাকঘান পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। এখন বিশেষ তদন্তকারী রবার্ট মুলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টার বিষয়েও তদন্ত করবেন। মুলারের তদন্তে সুবিধা করে উঠতে না পেরে আইনজীবী পাল্টানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি জানা গেছে, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের আইনজীবী এমেট টি ফ্লয়েডের সঙ্গে কথা বলেছেন।