রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে সকালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অবরোধ

রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে সকালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অবরোধ

রাজধানীতে জাতীয় সংসদের বিপরীত পাশের সড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ অবরোধ করেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। বুধবার সারারাত এখানেই ঘুমিয়েছেন তারা। সকালে উঠে সড়কে আবার লাইন করে বসেছেন।

বৃহস্পতিবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তারা সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। তারা চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের ব্যানারে অনশন ও সড়ক অবরোধ করছেন।


তারা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে সুযোগসহ ছয় দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।

রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে সকালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অবরোধ

ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানার অপারেটর আনোয়ার  বলেন, তারা রাতে রাস্তার ওপরে ঘুমায়, সকাল থেকে আগের মতোই সড়কের একপাশ অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছে। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। সড়কের একপাশ থেকে দুই দিকে যান চলাচল করছে বলে জানান তিনি।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের দাবিগুলো হলো- নবম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগের ব্যবস্থা, গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের দশম গ্রেডভুক্ত ৩৮ নম্বর রিসোর্স শিক্ষক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে, ওই পদে ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য শুধু উপযুক্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে সকালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অবরোধ

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রুতিলেখক নীতিমালা-২৫-এর বি উপধারা অনুযায়ী সরকারিসহ স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় ওই আইন মেনে চলার নিশ্চয়তা দিতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরিতে যোগদানের আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক বেকার ভাতা প্রদান করতে হবে। বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের প্রতিবছর একবার বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বস্তরে কাজের সুযোগ দিতে হবে।

আন্দোলনকারীরা জানান, অনশনের কারণে কয়েকজন অসুস্থ হয়েছে। তাদের সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।