রাণীনগরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ৩৮৫ পরিবারের

রাণীনগরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ৩৮৫ পরিবারের

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ এই রকম দরিদ্র পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তাদের নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় উপজেলার খট্টেশ্বর, কাশিমপুর, কালিগ্রাম, বড়গাছা ও একডালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় ৩৮৫ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে তারা বেজায় খুশি। এখন তাদের আর ভাঙা ঘরে ঘুমাতে হয় না। ১১ জুন থেকে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শেষ করে তালিকা ভুক্তদের মাঝে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এক সময় যে মানুষগুলো ঝড়-বৃষ্টির সময় ভাঙাচুরা ঘরে বসবাস করতে না পেরে একটু ভাল থাকার আসায় অন্যের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিত নতুন ঘর পেয়ে তারা এখন বেশ আরামেই ঘুমাচ্ছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকারভোগীদের জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে ২৯৭ বর্গফুটের বারান্দাসহ টিনের একটি ঘর আর পাশেই রয়েছে একটি টয়লেট। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ও টয়লেটের উপকরণসহ নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা।

সদর ইউনিয়নে ৬৬টি, কাশিমপুর ইউনিয়নে ৭৯টি, কালীগ্রামে ৯৬টি, বড়গাছায় ৮৫টি, ও একডালা ইউনিয়নে ৫৯টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বাবার শেষ সম্বল হিসেবে পাওয়া এক খন্ড জমির উপর যে ভাঙাচুরা ঘর ছিল সে ঘরে বৃষ্টি বাদলের কারণে প্রায় বছর ধরেই বউ-বাচ্চা নিয়ে ঠিক মত ঘুমাতে পারি না। রাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জড়সড় হয়ে ঘরের কোনায় বসে থাকতে হয়। বেশি বৃষ্টি হলেই অন্যের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। এর মধ্যে আবার আমি গুরুতর অসুস্থ ছিলাম। স্থানীয় মেম্বার আমার নামের তালিকা দিলে সরকার থেকে আমাকে একটি ঘর করে দেয়। ১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান পিন্টু জানান, বর্তমান সরকার গরিব, দুস্থ, অসহায়, ভাগ্য বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। যার এক খন্ড জমি আছে ঘর নেই, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশ সুখেই আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সদস্য সচিব মো. মেহেদী হাসান জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সিডিউল মোতাবেক ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮৫টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।