রাণীনগরে প্লাস্টিকের তৈরি মাদুরের কদর বেড়েই চলেছে

রাণীনগরে প্লাস্টিকের তৈরি মাদুরের কদর বেড়েই চলেছে

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে রঙ বেরঙের তৈরি মাদুরের কদর দিনদিন বাড়ছে। টেকসই মানসম্পন্ন ও ঝলকানো রঙের হওয়ায় পারিবারিক বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানুষ পরিবেশ বান্ধব পাতির তৈরি মাদুরের চেয়ে প্লাস্টিকের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ায় দিনদিন এর কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বেশ কদরের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ট্রাক-ট্রেনসহ নানা পরিবহনে চালান হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের অসহায় হতদরিদ্র নারী পুরুষ পরিবারের সবাই মিলে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে বাজার থেকে প্লাস্টিকের পাইপ কিনে মাদুর তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে।

এতে শত শত পরিবার এখন বেকারত্ব ঘুচিয়ে অনেকটাই স্বাবলম্বী। মৌসুমের বিশেষ এক সময়ে যখন সাধারণ মানুষের হাতে তেমন কোন কাজ থাকে না তখন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ বেকার সময় নষ্ট না করে প্লাস্টিকের পাইপ তৈরির কারখানা থেকে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে পাইপ কিনে মাদুর তৈরি করে। সপ্তাহে তারা অল্প পুঁজি নিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি প্লাস্টিকের মাদুর তৈরি করে থাকে। এখন এই পেশায় জড়িতদের সংসারে আর অভাব অনটন জেঁকে বসতে পারে না। মাদুর তৈরির মূল উপকরণ পাটের দড়ি, সামান্য কিছু বাঁশ আর নগদ কিছু পুঁজি হলেই খুব সহজেই মাদুর তৈরি করা যায়। পরে হাটে গিয়ে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে। প্রায় সারা বছরই মাদুর তৈরির উপকরণ হাতের নাগালে পাওয়া যায়।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় হঠাৎ করে গত তিন-চার বছর আগে ত্রিমোহনী এলাকায় তিনটি প্লাস্টিকের পাইপ তৈরির মিল স্থাপন হওয়ার পর থেকে পাতি দিয়ে তৈরি মাদুরের পাশাপাশি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তৈরি মাদুরের চাহিদা বেড়ে যায়। উপজেলা সদর, বাহাদুরপুর, চকমনু, ত্রিমোহনী, মিরাট, দূর্গাপুর, বেতগাড়ি এলাকায় শত শত বেকার তরুণ তরুণী প্লাস্টিক মাদুর তৈরি করে বাজারে বিক্রয়ের মাধ্যমে ভাল আয় করছে। প্লাস্টিক মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণ (পাইপ) মিল মালিকরা প্রতি কেজি ৯০ থেকে শ্রেণি ভেদে একশ দশ টাকায় খুচরা বিক্রয় করে।

 তিন হাত লম্বা প্রতিটি প্লাস্টিক মাদুর পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে ও নকশা ভেদে খুচরা ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। যা তৈরিতে খরচ পড়ে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। ব্যাপক চাহিদার কারণে উপজেলার তিনটি প্লাস্টিক পাইপ তৈরির মিল মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণগুলো সরবারহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। নীলফামারি থেকে আসা প্লাস্টিক মাদুরের পাইকারি ক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে এই হাটে এসে প্লাস্টিকের মাদুর পাইকারি দরে কিনে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয়ের জন্য নিয়ে যাই।