রাজশাহীতে গাছে বেঁধে নির্যাতন করায় নারীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার এক

রাজশাহীতে গাছে বেঁধে নির্যাতন করায় নারীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার এক

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের কারণে ক্ষোভে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে আক্তারুন নেসা (৩৮) নামে ওই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।আক্তারুন নেসার বাড়ি বাগমারার বড় বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে তার স্বামী নিরুদ্দেশ। ২০ বছরের এক ছেলে ঢাকায় থাকে। আর ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। প্রতিবেশি আবদুল মজিদের সাথে তার অনেক দিন ধরেই বিরোধ ছিলো। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে। মজিদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতের ফসল নষ্টের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবদুল মজিদ এবং তার সহযোগীরা আক্তারুন নেছাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে দুই ঘন্টাব্যাপি নির্যাতন করেন মজিদ এবং তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। ঘটনানটি জানাজানি হলে আক্তারুন নেসা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

পরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি গ্রামের একটি দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তা পান করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত স্বজনরা বাগমারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে রাতে তার ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।আক্তারুন নেছার ভাই সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, তার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষোভে আর অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।বাগমারা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর আবদুল করিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ইউপি সদস্য মজিদের ভাই। বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর মরদেহের ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।