রাজশাহীতে আটক ৪ জঙ্গি সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত ছিল

রাজশাহীতে আটক ৪ জঙ্গি সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত ছিল

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ার ভড়ুয়াপাড়া থেকে র‌্যাবের অভিযানে আটক চার জঙ্গি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিল। আটকের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৫ এর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে: কর্নেল মাহাবুবুল আলম। এর আগে অভিযান চালিয়ে সোমবার গভীর রাতে চার জঙ্গিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদী বইও উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হচ্ছে- হায়াতুল্লাহ রুবেল ওরফে মাসুদ, আবদুর রহিম ও মিজানুর রহমান ওরফে মেজা। তাদের দেয়া তথ্য মতে মুকুল হোসেনকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। এরা আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল আলম বলেন, কোরআন শিক্ষার আড়ালে এরা আহলে হাদিস ও জাগ্রত মুসলিম জনতা নামে ইসলামের মূলধারার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের ধর্মভীরুতা কাজে লাগিয়ে তারা সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ করে। আর এই জঙ্গি কার্যক্রমের মূলে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজু মুন্সি। তিনি অসুস্থতার কারণে মারা যান বলে জানান র‌্যাবের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, প্রায় এক যুগ আগে ভড়ুয়াপাড়ায় আজুমুন্সির মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (পরবর্তীতে আনসার আল ইসলাম নামে পরিচিত) সংগঠনের কার্যকলাপ শুরু করে। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলায় সে যুক্ত আছে বুঝতে পারে এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদ করলে সংগঠনের লোকজন তাদের দমিয়ে রাখে। এভাবে কিছুদিন চলার পর ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের আরও কিছু উগ্রবাদী সদস্য যেমন শহিদুল, মিজানুর রহমান মেজা, সাদ্দাম, উজ্জল, রাকীব, মামুন ও হায়াতুল্লাহ এই সংগঠনের সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০০৫ সালে আজুমুন্সি মারা গেলে তার জায়গায় আসে বাবর মুন্সি। বাবর মুন্সি গোপনে সংগঠনের কার্যক্রম চালাতে থাকে। সেসময় গোপন বৈঠককালে তাদের কিছু সদস্যও আটক হয়। মাহবুব আলম বলেন, এ বছরের ৬ অক্টোবর নাশকতা ষড়যন্ত্র করায় ভড়ুয়াপাড়া থেকে বাবর মুন্সিকে ২৪টি জিহাদী বইসহ আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভড়ুয়াপাড়া থেকে চার জঙ্গি আটক করা হয়।র‌্যাবের অভিযানে হায়াতুল রুবেল ওরফে মাসুদ এর কাছ থেকে ২টি, আব্দুর রহিমের কাছে ২টি, মিজানুর রহমান ওরফে মেজার কাছে একটি বিতর্কিত জিহাদী বইসহ আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে: কর্নেল মাহাবুবুল আলম।