রাজশাহী নগরীর ৩০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজশাহী নগরীর ৩০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার এলাকায় ‘শাহজাহান ব্রাদার্স’ নামের একটি মুদির দোকান মালপত্র রেখেছিল ফুটপাতের ওপর। সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকান মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশেই এক আম বিক্রেতা ঝুড়ি সাজিয়ে রেখেছিলেন ফুটপাতে। তাকে জরিমানা করা হয় পাঁচ হাজার টাকা। আম বিক্রেতার পাশে একটি মিষ্টির দোকানের সাটার ছিল ফুটপাত দখল করে। আদালত তাকে জরিমানা করেন ৩০ হাজারটাকা। এভাবে রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকার এই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রায় প্রতিটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে পুলিশ নিয়ে এ অভিযান শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত অবৈধভাবে স্থাপন করা বেশ কিছু দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়। তবে এসময় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে অভিযানকারী দল। দুপুরের খাবারের জন্য অভিযানে বিরতি দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল।

তিনি জানান, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় রাস্তার ডান পাশ থেকে অভিযান শুরু করে তারা পশ্চিম দিকে এগোতে থাকেন। মনিচত্বর পর্যন্ত ফুটপাত দখলের জন্য অন্তত ৩০টি দোকানকে তারা জরিমানা করেছেন। দুপুর পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। দুপুরের খাবারের পর মনিচত্বর থেকে রাস্তার আরেক পাশে অভিযান শুরু করে তারা জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত আসবেন। এদিকে মনিচত্বর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনার পর দুপুরের আগে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দল লোকনাথ স্কুলের সামনের সড়কে অভিযান চালায়। প্রায় ৩০০ মিটার লম্বা সরু এই রাস্তাটির দুই পাশে দোকান। এসব দোকানের মধ্যে ২০টি পুনর্বাসিত। নগরীর মুড়িপট্টি থেকে তাদের এখানে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু এখানে আর মুড়ির ব্যবসা চলে না। তাই সবাই কম্পিউটারের লেখালেখি, অনলাইনে বিভিন্ন ফরম পূরণ এবং ফটোকপির দোকান করেছেন। এই ২০ জনের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন অস্থায়ীভাবে দোকান করেছিলেন। তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিযানে গিয়ে মাইকে ঘোষণা করা হয়, যারা এখানে পুনর্বাসিত নন তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে আগেই মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কেউ দোকানপাট সরাননি। এখন ৩০ মিনিট সময় দেয়া হচ্ছে মালামাল সরিয়ে নিতে। এরপর উচ্ছেদ শুরু হবে। এ সময় অবৈধ দোকানদাররা মালামাল সরিয়ে নিলে ৩০ মিনিট পর বুলডোজার দিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একইভাবে ৩০ মিনিট সময় দিয়ে সাহেববাজার কাঁচাবাজারে অভিযান চালাতে যায় উচ্ছেদকারী দল।রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের পাশে সরু রাস্তাটির ওপরেই বসে কাঁচামালের দোকান। ৩০ মিনিট পর এখানে অভিযান চালাতে গেলে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তখন দুপুরের খাবারের বিরতিতে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় উচ্ছেদের বিষয়ে কথা বলতে ব্যবসায়ীরা সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে দেখা করার ঘোষণা দেন।ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, ব্যবসায়ীদের ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা ছিল না। সবাই রাস্তা দিয়েই হাঁটতে বাধ্য হতেন। এতে শহরের এই প্রাণকেন্দ্রে প্রচন্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। ফুটপাত ছেড়ে দেয়ার আহবান জানিয়ে কয়েক দিন আগে থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ ফুটপাত ছাড়েননি। এ জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব এলাকাতেই ফুটপাত উদ্ধারের এ অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।