রাজধানীতে হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তি

রাজধানীতে হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা অফিস : হালকা বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে হাটু পানি হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর সড়কে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় বৃষ্টি হয়েছে ৫২ মিলিমিটার। রাজপথে সৃষ্টি হয়েছে থইথই অবস্থা। অলিগলিসহ সড়কেও উপচে পড়ে সে দৃশ্য। আর তাতেই নগরজীবনে নেমে আসে সীমাহীন ভোগান্তি। গতকাল বুধবার সকালে থেকে কয়েক ঘণ্টা হালকা বৃষ্টি হয়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে কর্মস্থলে যান। রাজধানীর মিরপুর, গ্রিন রোড, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত সড়কের এক পাশ, শ্যামলী, শুক্রাবাদ, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, বাড্ডা, মতিঝিল ও খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি উঠায় তৈরি হয় যানজট। এতে বিপাকে পড়েন মানুষ। কোথাও কোথাও পানি ওঠে মাঝ রাস্তাতেই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া বেশিরভাগ সড়কেই রয়েছে তীব্র যানজট।

আবহাওয়াবিদ নিঝুম রোকেয়া আহমেদ বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টি আরও কয়েক দিন হতে পারে। বুধবার সকালে রোদের দেখা মিললেও বেলা একটু গড়াতেই মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। সকাল ৯টার কিছুর পর শুরু হয় বৃষ্টি। থেমে থেমে বৃষ্টি চলে পৌনে ১২টা পর্যন্ত। বৃষ্টিতে পথচারীরা আশেপাশের দোকান, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও দীর্ঘ সময়েও না থামায় অনেকে ভিজেই গন্তব্যে রওয়ানা হন। বৃষ্টির সময় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নগরবাসীর দুর্ভোগের এমন চিত্র দেখা গেছে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাস স্ট্যান্ডে ওভারপাসের নিচে অল্প একটু জায়গায় অনেককে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবুও বাঁচতে পারেনি বৃষ্টি হাত থেকে। পরে অনেকে ভিজে ভিজেই গাড়িতে ওঠেন।

এমনই একজন গুলিস্তানের বঙ্গবাজারের দোকান কর্মচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম বৃষ্টি তো থামে না। দোকান খুলতে অইব। কী আর করমু, তাই ভিজেই বাসে ওঠলাম।’ সকাল ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী গোল চত্বরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ। যাত্রাবাড়ী মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইউনুস আলী বলেন, ‘মিরপুর যাব। ডেমরা বামৈল থেকে আধা ভেজা হয়ে কোনো রকমে আসলাম। কিন্তু মিরপুর যাওয়ার কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি।’ বৃষ্টিতে রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, মতিঝিল, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে তীব্র যানজট। রুবায়েত হোসেন নামে একজন বলেন, ‘বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও কাকরাইলের দিকে বেশ যানজট রয়েছে।’ এছাড়া গ্রীষ্মের এমন বৃষ্টিতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল, দনিয়া, শেখদীসহ আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন তেমনি দেখা দিয়েছে তীব্র যানজটের। সকালে বৃষ্টির ফলে রাজধানীর মিরপুর কাজীপাড়ার পুরো রাস্তা জলবদ্ধ হয়ে যায়। সকালে যারা কাজে বেরিয়েছেন তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দেখা মিলেনি গণপরিবহনের। বিপরীত দিকের রাস্তায় (আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০) জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

একদিকে সড়কে হাঁটুপানি, অন্যদিকে গণপরিবহন সঙ্কট। এরমধ্যেই ছাতা মাথায় অফিসগামী মানুষকে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসের জন্য। এরই মধ্যে যখন জলাবদ্ধ সড়কে দিয়ে যানচলাচল করছে তখন সড়কে সৃষ্ট ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে ফুটপাতে। জলাবদ্ধতার এ চিত্র শুধু রাজধানীর মিনপুরে নয়। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কালশি, মতিঝিল, আরামবাগ, বাড্ডা, মালিবাগ, কাঁঠালবাগান জুরাইন, দনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট, কাঁচাবাজার, পাড়া-মহল্লা। ড্রেনেজ লাইন নিয়মিত পরিষ্কারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানীর রাস্তাগুলো। ফলে একটু ভারী বর্ষণেই ছন্দপতন হয় রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকে। শত শত কোটি টাকা খরচ করে এসব আবর্জনা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলে না ঢাকাবাসীর।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, রাজধানীতে মূলত ১২ শতাংশ জলাভূমি থাকার কথা। কিন্তু সেখানে আছে মাত্র দুই শতাংশ। শহরের অধিকাংশ মাটি কার্পেটিং করা এবং নিম্নাঞ্চল ভূমিদস্যুদের দখলে। এসব কারণে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন কিছুটা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ঢাকায় ৬৫টি খাল ছিল, চারটি নদী ছিল, এখন সেগুলো নেই। তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হবে না। হলেও তা দুই-তিন ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হবে না।