রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে অপহরণ মুক্তিপণের ১৪ লাখ টাকাসহ চার অপহরণকারী গ্রেফতার

রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে অপহরণ মুক্তিপণের ১৪ লাখ টাকাসহ চার অপহরণকারী গ্রেফতার

রাজধানীর পল্লবীতে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মো. মিজানুর রহমান সায়ান (১১) নামে এক স্কুলছাত্রকে মুক্তি দেওয়া অপহরণ চক্রের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হচ্ছে- মো. নাদিম (১৯), মো. আসিফ (১৯), সজীব খান (২০) ও নাইম হাওলাদার (২২)। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়কৃত টাকার মধ্যে ১৪ লাখ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার ২০ দিন পর গত সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১১ নম্বর থেকে চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে  মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির। তিনি বলেন, ‘চক্রের মূল হোতা নাদিম। সে অপহৃত সায়ানের চাচার অফিসে চাকরি করতো। সহজে বড়লোক হওয়ার উপায় হিসেবে সে সায়ানকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।’ এদিকে পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মুক্তিপণের টাকায় সহজেই লাখপতি বনে গিয়েছিল ওই চার তরুণ। তবে তা স্থায়ী হয়নি। বাধ সেধেছে বেরসিক র‌্যাব। অতঃপর ১৪ লাখ টাকাসহ তারা ধরা পড়েছে র‌্যাবের জালে। 

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম ও আসিফ জানিয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২০১৪ সালে তারা জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরে পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে। সায়ানকে অপহরণ করার বিষয়ে নাদিম র‌্যাবকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তারা ধনী পরিবারের সন্তানকে অপহরণ করে সহজে বেশি অর্থ আয় করার পরিকল্পনা করে। তারা টার্গেট হিসেবে নেয় সায়ানকে। এ কাজে সহায়তা করার জন্য তারা সায়ানের বাবার অফিসের অফিস সহকারী মো. নাঈম হাওলাদারের পরামর্শ নেয়। র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন সায়ান বাসা থেকে বের হলে আসিফ ও নাদিম তাকে বুলডগ প্রজাতির কুকুর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে। ওই দিন তারা সায়ানকে তাদের আরেক সহযোগী সজীব খানের বাসায় রাখে এবং সায়ানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দরকষাকষি করে। ২৮ মার্চ দুপুর ২টার দিকে আসামিরা সায়ানের বাবার কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় সায়ানকে মিরপুর-১৩ পুলিশ স্টাফ কলেজের সামনের রাস্তায় ছেড়ে দেয়। অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, চক্রের মূল হোতা মো. নাদিম এবং সায়ানদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।

একসময় সায়ানের চাচার অফিসে চাকরি করত নাদিম। দেড় বছর ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে সে সায়ানদের পরিবারের অনেক তথ্যই জানত। এক পর্যায়ে সহজে টাকার মালিক হওয়ার পন্থা হিসেবে তারা সায়ানকে অপহরণের টার্গেট করে। তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাবের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হলে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে নাদিমকে পল্লবীর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সহযোগী আসিফকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বাসাও পল্লবীতে। ওই বাসা থেকে মুক্তিপণ আদায়কৃত ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণের টাকায় কেনা দুটি দামি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানায়, সায়ান পরিবারের সঙ্গে রূপনগরের বাসায় থাকত। স্থানীয় এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

অন্যান্য দিনের মতো গত ২৭ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে সায়ান বাইসাইকেল নিয়ে বের হয়। সাধারণত সে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেও ওই দিন আর ফিরে আসেনি। খোঁজ-খবর করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সায়ানের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। সায়ানের মুক্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সে। টাকা না দিলে সায়ানকে হত্যার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ওই রাতে অপহৃত সায়ানের চাচা মো. হাবিবুর রহমান রূপনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব ৪-এর কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। এরমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশকে না জানিয়ে সায়ানের পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা সায়ানকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। তবে র‌্যাব তদন্ত অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রটিকে শনাক্ত করা হয় এবং রোববার সন্ধ্যায় মিরপুর ১১ নম্বর থেকে ওই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।