রাজধানীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের গ্রেফতার ১৪

রাজধানীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের গ্রেফতার ১৪

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি উত্তর) পুলিশ। তারা হচ্ছে- মোঃ রাহাত ইসলাম, মোঃ সালাহউদ্দিন, মোঃ সুজন, মোঃ জাহিদ হোসেন, সুফল রায় ওরফে শাওন, মোঃ আল-আমিন, মোঃ সাইদুল ইসলাম, মোঃ আবির ইসলাম নোমান, মোঃ আমান উল্লাহ, মোঃ বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, মোঃ শাহাদাত হোসেন ওরফে স্বপন, ফাহিম ইসলাম ও তাহসিব রহমান। তাদের কাছ থেকে প্রশ্নফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ২৩ টি আইফোন ও বিভিন্ন ডিভাইস এবং ২ লাখ ২হাজার ৪শ’ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে রোববার ডিএমি ে মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মোঃ আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ফেসবুকে একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁস করবেই এবং কেউ তাদের ধরতে পারবে না বলে চ্যালেঞ্জ করে। বিষয়টি নজরে এলে অভিযান পরিচালনা ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, ‘এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষা শুরুর কিছুদিন পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ পেজ ওপেন করে তাতে বিভিন্ন ফেক প্রশ্নপত্রের সেট ছাড়ে পরীক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দেয়া প্রশ্নপত্রের মধ্যে কিছু প্রশ্ন হয়ত পরীক্ষায় কমনও আসে ।’

প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় এটা ঠিক। তবে এটা হয় পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১৫/৩০ মিনিট পূর্বে । কারন প্রশ্নপত্র প্যাকেটে সীলগালা করে সংরক্ষিত থাকে ডিসি অফিসে। সেখান থেকে পরীক্ষার দিন যায় কেন্দ্রে। কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের সীলগালা প্যাকেটটি খোলা হয় পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে। এরপর প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়া হয় পরীক্ষার হলে। কেন্দ্রে প্যাকেট খোলার পর পরীক্ষার হলে নেওয়ার পথে কুচক্রের কোন কোন সদস্য গোপনে মোবাইল বা অন্য কোন ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন সেটের স্ক্রিন শট নিয়ে ফেসবুক বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার দিন পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এবং পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন/অন্য কোন ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে কেউ প্রশ্নপত্রের ছবি কোন সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে না পারে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর পূর্বে বা পরে কোন অনুপ্রবেশকারী যেন পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’